প্রকাশ :: ... | ... | ...

পেকুয়ায় নববধুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবী হত্যা


সংযুক্ত ছবি

কক্সবাজারের পেকুয়ায় কাজল রেখা (১৯) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, কাজলকে হত্যা করে মরদেহ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে। শনিবার (২০ জুন) বিকেল প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় তার শ্বশুরবাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পেকুয়া থানা পুলিশ। নিহত কাজল রেখা পৌরসভার উত্তর গোয়াখালী এলাকার গ্রাম পুলিশ জসিম উদ্দিনের মেয়ে। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি মুরাপাড়া এলাকার রাজু ইসলাম রানার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। রানার বাবা মো. রাসেল। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। বিশেষ করে বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণালংকার স্বামী বিক্রি করে দেওয়ায় তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে প্রায় ১৫ দিন আগে কাজল রেখা বাবার বাড়িতে চলে যান। নিহতের পরিবার জানায়, শুক্রবার বিকেল প্রায় ৫টার দিকে কাজল রেখা বাবার বাড়ি থেকে আম ও কাঠাল নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। এরপর শনিবার তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম বকুল অভিযোগ করেন, আমার বোনকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তিনি আরও বলেন, আমিসহ গিয়ে বোনকে শ্বশুর বাড়িডে রেখে আসি। বোন যেতে চাইনি বলছে শ্বশুর বাড়িতে গেলে তাঁরা আমাকে মেরে ফেলবে। আজ (শনিবার) দুপুরে বোনের জামাই রাসেল ভিডিও কলে বোনের আত্মহত্যার কথা জানায়। আমার বোন আত্মহত্যা করতে পারেনা। হত্যা করে আত্মহত্যা করছে বলে অপ্রচার চালাচ্ছে। নিহতের বাবা গ্রাম পুলিশ জসিম উদ্দিন বলেন, আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর রাজু ইসলাম রানা ভিডিও কলে তার মায়ের মোবাইলে ফোন করে কাজল রেখার মৃত্যুর খবর জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। মাত্র সাড়ে চার মাসের দাম্পত্য জীবনের পর কাজল রেখার এমন মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।