প্রকাশ :: ... | ... | ...

মামলা জট কমাতে পেকুয়াতে পৃথক আদালত চান বিচারপ্রার্থীরা


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: নাজিম উদ্দিন

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় একটি স্বতন্ত্র আদালত স্থাপনের দাবি ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার হাজারো বিচারপ্রার্থীকে মামলা সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য চকরিয়া আদালতে যেতে হওয়ায় সময়, অর্থ ও শ্রমের অপচয়ের পাশাপাশি নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, পেকুয়া উপজেলা প্রতিষ্ঠার প্রায় ২৫ বছর পার হলেও এখনো এখানে কোনো পৃথক আদালত স্থাপিত হয়নি। ফলে মামলা সংক্রান্ত হাজিরা, সাক্ষ্য প্রদান এবং অন্যান্য বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নিতে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মানুষকে চকরিয়া আদালতে যেতে হয়। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। পেকুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ছফওয়ানুল করিম বলেন, প্রতি মাসে হাজিরার জন্য চকরিয়া আদালতে যেতে হয়। সেখানে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে একটি মামলার হাজিরার জন্য পুরো দিন ব্যয় হয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বিচার বিভাগের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালতে হাজিরা দেওয়া স্বাভাবিক বিষয়। আমরা বিশ্বাস করি, নিরপেক্ষ বিচারের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে পেকুয়ায় একটি পৃথক আদালত থাকলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে। কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন টিটু বলেন, পেকুয়ার ভৌগোলিক দূরত্ব ও জনসাধারণের দুর্ভোগ বিবেচনায় এখানে একটি আদালত স্থাপন এখন সময়ের দাবি। এতে বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি সহজ হবে এবং চকরিয়া আদালতের ওপর মামলার চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। ফলে বিচার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদু রাজ্জাক বলেন, পেকুয়া উপজেলা ২০০২ সালের ২৩ এপ্রিল সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হলেও পৃথক আদালত না থাকায় এখানকার মানুষের বিচারসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। আদালতের কাজে চকরিয়া যেতে গিয়ে মানুষকে ভোগান্তি ও হয়রানির পাশাপাশি অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয়, আইনজীবী ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। তাই পেকুয়ার মানুষের জন্য একটি পৃথক আদালত স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, পেকুয়ায় আদালত স্থাপন করা হলে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মানুষ বিচারসেবা গ্রহণে স্বস্তি পাবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মামলা-মোকদ্দমার সংখ্যা এবং প্রশাসনিক গুরুত্ব বিবেচনায় পেকুয়ায় একটি স্বতন্ত্র আদালত প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। এতে বিচারপ্রার্থীদের যাতায়াত ব্যয় কমবে, সময় সাশ্রয় হবে এবং বিচারসেবা আরও সহজলভ্য হবে। এ ব্যাপারে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত পেকুয়ায় একটি পৃথক আদালত স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের আশা, জনস্বার্থের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং পেকুয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ পাবে।