| ছবি: সংগ্রহীত
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তেলিয়াকাটা এলাকায় জমিতে ধানের চারা রোপণ করে জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে তেলিয়াকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, উত্তর মেহেরনামা সাবেকগুলদি এলাকার মৃত করিমদাদের ছেলে শামসুল আলম (৫৪) তাঁর স্ত্রী মালেকা বেগম (৪৬) এবং তেলিয়াকাটা এলাকার বাসিন্দা শামসুল আলমের চাচা জাফর আলম (৬৫)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শামসুল আলমের ভোগদখলীয় জমিতে ধানের চারা রোপণ করে জমি দখলের চেষ্টা চালানো হয়। শুক্রবার সকালে শামসুল আলম ও তাঁর স্ত্রী জমিতে গিয়ে ধানের চারা রোপণের কারণ জানতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে। শামসুল আলমের অভিযোগ, তেলিয়াকাটা এলাকার এমদাদ মিয়া ও তাঁর লোকজন তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে মারধর করেন। এ সময় তাঁদের উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে তাঁর চাচা জাফর আলমকেও ইট দিয়ে আঘাত করে আহত করা হয়। শামসুল আলম বলেন, প্রায় ২২ বছর আগে জনৈক গোলাম কাদেরের কাছ থেকে ১০ শতক জমি কিনেছি। আমার নামে জমাভাগ খতিয়ানও সৃজিত হয়েছে। এরপর থেকে আমি জমিটি ভোগদখল করে আসছি। বৃহস্পতিবার রাতে আমার জমিতে ধানের চারা রোপণের খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে সেখানে যাই। এ সময় জমিতে ধান রোপণের কারণ জানতে চাইলে এমদাদ মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি, তাঁর ছেলে রিয়াজ উদ্দিনসহ কয়েকজন আমাকে ও আমার স্ত্রীকে মারধর করেন। আমাদের উদ্ধার করতে গেলে চাচা জাফর আলমকেও ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, প্রায় দুই বছর আগে ফিরোজ আহমদ নামে এক ব্যক্তি ওই জমি জবরদখলের চেষ্টা চালান। সে সময় পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত বিষয়টি শুনানি করে তার (শামসুল আলমের) পক্ষে রায় প্রদান করে। একইভাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তদন্ত শেষে তার পক্ষে একটি প্রতিবেদন প্রদান করেন। পরবর্তীতে ফিরোজ আহমাদ গং চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মুচলেকা দিয়ে ভবিষ্যতে ওই জমিতে অনুপ্রবেশ করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। অভিযোগকারীর দাবি, বর্তমানে যারা জমিটি জবরদখলের চেষ্টা করছেন, তাদের মধ্যে এমদাদ মিয়া ফিরোজ আহমদের ভগ্নিপতি। ফিরোজ আহমদের ইন্ধন ও পরোক্ষ মদদে এমদাদ মিয়া ওই জমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ পরিস্থিতিতে জমিটি রক্ষায় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বিরোধপূর্ণ জমিটি শামসুল আলমের। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন এবং সেখানে নিয়মিত চাষাবাদ করছেন। তবে প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তারা জোরপূর্বক তাকে জমি থেকে উচ্ছেদ করে দখল নেওয়ার পাঁয়তারা করছে বলে স্থানীয়রা জানান।