| ছবি: নাজিম উদ্দিন
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের করিয়ারদিয়া গ্রামের বিছাখালী 'বাহিরের ঘোনা' নামক জলাভূমি থেকে দুই ব্যক্তিকে দুটি দেশীয় তৈরি এলজি, কার্তুজ ও একটি ইঞ্জিনচালিত ছোট নৌকাসহ আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে গণধোলাইয়ের পর তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার (২৬ জুন) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তিরা হলেন, মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিল এলাকার মৃত উলা মিয়ার ছেলে নেজাম উদ্দিন (৩৭) এবং মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের মাঝেরপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৩৫)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্দেহজনকভাবে অবস্থানকালে স্থানীয়রা তাদের আটক করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি দেশীয় তৈরি এলজি, ১৫টি শর্টগানের খালি কার্তুজ, দুটি তাজা কার্তুজ এবং একটি ইঞ্জিনচালিত ছোট নৌকা উদ্ধার করা হয়। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইজনকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, কার্তুজ ও নৌকাটি জব্দ করা হয়। আহত অবস্থায় তাদের চিকিৎসার জন্য পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.মেহেদী হাসান বলেন, দুইজনকে অস্ত্র-কার্তুজসহ আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় আটক দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে অস্ত্রসহ আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। একটি পক্ষের দাবি, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিছাখালী এলাকার চিংড়ি ঘেরের আধিপত্য ও দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, এক পক্ষ অপর পক্ষকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো, হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিল। জানা যায়, বিছাখালীর ‘বাহিরের ঘোনা’ নামক জলাভূমিতে আবুল কাসেম, জহিরুল ইসলাম, বখতিয়ার উদ্দিন ও আজমগীরের মালিকানাধীন চিংড়ি ঘের রয়েছে। তারা সবাই পেকুয়া উপজেলার বাসিন্দা। এসব ঘের বৈধভাবে লিজ নেন মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ির বাসিন্দা মোকতার আহমদ। অন্যদিকে, মনুর আলম,জিয়াবুল হক জিকু, ইকবাল দরবেশী ও গিয়াস উদ্দিনের মালিকানাধীন চিংড়ি ঘের লিজ নেন একই উপজেলার কালানারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা দরগাহমুরা এলাকার বাসিন্দা নেজাম উদ্দিন। সূত্র জানায়, উভয় লিজগ্রহীতাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। অস্ত্রসহ আটক হওয়া শহিদুল ইসলাম নেজাম উদ্দিনের কর্মচারী ও অনুসারী। নেজাম উদ্দিনের পরিবারের দাবি, বৈধভাবে চিংড়ি ঘের লিজ নিয়েছেন নেজাম। কিন্তু তার ঘের দখলের উদ্দেশ্যে মোকতার আহমদ ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে নেজাম ও তার কর্মচারী শহিদ বদরখালী ঘাট পার হয়ে ঘেরে যাওয়ার সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা ১০-১২ জন অস্ত্রধারী তাদের আটক করে নিজেদের মোকতারের আস্তানায় নিয়ে যায়। সেখানে রাতভর নির্যাতনের পর শুক্রবার সকালে তাদের কাছে অস্ত্র ও গুলি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাদের দাবি, মূলত চিংড়ি ঘের দখলের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে এবং অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মোকতার আহমদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।