| ছবি: নাজিম উদ্দিন
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম আবু তাহের (৭৫)। তিনি উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হারুন মাতবর পাড়ার বাসিন্দা। শুক্রবার (২৬ জুন) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে রাত ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় একই ইউনিয়নের পুরাতন বহদ্দার পাড়ার নুরুল হোছাইনের ছেলে শিফাত এবং শাহ আলমের ছেলে বাহাদুর নিহত আবু তাহেরের বাড়িতে ঢিল নিক্ষেপ করে। বিষয়টি জানতে পেরে আবু তাহের ঘর থেকে বের হয়ে কারণ জানতে চাইলে তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে শিফাত ও বাহাদুর ধারালো কিরিচ দিয়ে তাকে কুপিয়ে এবং মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে পাশের একটি পুকুরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। নিহতের পুত্রবধূ ছকিনা বেগম বলেন, আমার জা তৈয়বা বেগমের ঘরের চালে শিফাত ঢিল ছোড়ে। তিনি চিৎকার করলে শ্বশুর আবু তাহের ঘর থেকে বের হয়ে কারণ জানতে চান। তখন শিফাত ও বাহাদুর তাকে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে আহত করে পুকুরে ফেলে দেয়। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। তিনি আরও বলেন, তার জা তৈয়বা বেগমের স্বামী কায়সার মালয়েশিয়ায় থাকেন। স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে শিফাত প্রায়ই তৈয়বাকে উত্যক্ত করত এবং রাতে বাড়িতে এসে ঢিল ছুড়ে বিরক্ত করত। নিহতের নাতনি জারিন হাসনাত তাসফিয়া বলেন, বাড়িতে ঢিল ছোড়ার পর দাদা বের হলে শিফাত তাকে কিরিচ দিয়ে কোপ দেয় এবং পুকুরে ফেলে দেয়। দাদার চিৎকার শুনে আমার চাচা তারেকসহ আমরা বের হয়ে আসি। কিন্তু হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। নিহতের বড় ছেলে নবাব মিয়া অভিযোগ করে বলেন, শিফাত একজন বখাটে। আমার ছোট ভাই কায়সারের স্ত্রী তৈয়বা বেগমকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করছিল। এ বিষয়টি নিয়ে আগে সামাজিকভাবে বিচার-সালিশও হয়েছে এবং শিফাতের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছিল। এরপরও সে উত্যক্ত করা বন্ধ করেনি। শিফাত ও বাহাদুর পরিকল্পিতভাবে আমার বাবাকে হত্যা করেছে। পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.মেহেদী হাসান বলেন, হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান চলছে।