কক্সবাজারের পেকুয়ায় সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় এক শুটকি ব্যবসায়ীকে ঘর থেকে ডেকে এনে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চড়িপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত মুহাম্মদ আলম মিয়া (২৫) একই এলাকার জমির উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন শুটকি ব্যবসায়ী। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চড়িপাড়া এলাকার আব্দুল হামিদের সঙ্গে প্রতিবেশী আলম মিয়ার টাকার লেনদেন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল হামিদ সুদের ভিত্তিতে টাকা লেনদেন করেন। সর্বশেষ সুদের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে হামিদের নেতৃত্বে ৩ থেকে ৪ জন মিলে আলম মিয়াকে মারধর করেন। আহত আলম মিয়া বলেন, প্রায় এক বছর আগে তিনি আব্দুল হামিদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। এরপর প্রতি মাসে ৯০০ টাকা করে সুদ পরিশোধ করে আসছিলেন। এ ছাড়া মূল টাকার ৩ হাজার টাকাও পরিশোধ করেছেন। সম্প্রতি আর্থিক সংকটের কারণে কয়েকদিন সুদের টাকা দিতে না পারায় আব্দুল হামিদ তার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। তিনি বলেন, আমি তাকে কয়েকদিন সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বারবার সুদের টাকা দাবি করে গালিগালাজ করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সন্ধ্যায় তিনি আমার বাড়িতে এসে আমাকে ঘর থেকে ডেকে বের করেন। বাইরে বের হলে দেখি তার ছেলে আব্দুর রহিম, আব্দুল গফুর ও ভাতিজা জাহেদুল ইসলামসহ কয়েকজন সেখানে অবস্থান করছেন। তারা লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। পরে টেনেহিঁচড়ে পাশের পেঠান মাঝির উঠানে নিয়ে গিয়ে আবারও মারধর করেন। তিনি আরও জানান, পেঠান মাঝি তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও হামলাকারীদের বাধার মুখে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী পেঠান মাঝি বলেন, টাকার লেনদেন থাকতেই পারে। কিন্তু সেই কারণে কাউকে ঘর থেকে ডেকে এনে এভাবে মারধর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি তাদের থামানোর চেষ্টা করলেও পারিনি। রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল আবছার বদু বলেন, মারধরের ঘটনা শুনেছি। আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে বলেছি। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে আহতের পরিবার জানিয়েছে।