| ছবি: নাজিম উদ্দিন
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পাড়ায় বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা, চাঁদাদাবি, হামলা ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সহকারী শিক্ষক আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেছেন ভুক্তভোগী বদরুজ্জামান (৬৭)। ভুক্তভোগী বদরুজ্জামান বলেন, তিনি দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে বারবাকিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পাড়ায় বসবাস করে আসছেন। তাঁর বসতবাড়ির পেছনে পানি চলাচলের একটি সরকারি নালা রয়েছে। ওই এলাকার কিছু অংশ সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানের জমির অন্তর্ভুক্ত হলেও স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে যার যার অংশ ভোগদখল করে আসছেন। এছাড়া বসতবাড়ির পেছনে জামাল উদ্দিনের কিছু জমি রয়েছে। বদরুজ্জামানের দাবি, সম্প্রতি আন্নর আলী পাড়ার বাসিন্দা ও নয়াকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমান উল্লাহ ওই জমি ক্রয় করেছেন বলে দাবি করেন। এরপর তিনি তাঁর চলাচলের জন্য বদরুজ্জামানের বসতভিটার কিছু অংশ দিয়ে রাস্তা করার দাবি জানান। বদরুজ্জামান বলেন, আমি তাকে জানিয়েছি, আমার ভিটায় পথের জন্য জায়গা দেওয়ার মতো কোনো অতিরিক্ত জায়গা নেই। কিন্তু এরপরও আমান উল্লাহ চাপ প্রয়োগ করে আমার সেমিপাকা বসতঘর ভেঙে জায়গা ছেড়ে দিতে বলেন। জায়গা না দিলে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, আমান উল্লাহ এলাকায় প্রভাবশালী এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের শ্যালক হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে তাকে ও তাঁর পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করছেন। তাঁর দাবি, আমান উল্লাহ যে জায়গা কিনেছেন বলে দাবি করছেন, তার পাশ দিয়েই চলাচলের রাস্তা রয়েছে। এরপরও তাঁর বসতঘর ভেঙে জায়গা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বদরুজ্জামান জানান, বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানানো হলেও তিনি কোনো সহযোগিতা না করে উল্টো তাকে ধমক দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এদিকে এ ঘটনার আগে আমান উল্লাহ বাদী হয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি মামলা করেছেন বলে জানা গেছে। ২৪ আগস্ট (সোমবার) বিকেল ৩টার দিকে বারবাকিয়া ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোহছেনা আক্তার ঘটনাস্থলে তদন্তে আসেন। এ সময় আমান উল্লাহর নেতৃত্বে ১০-১২ জন লোক বদরুজ্জামানের বাড়ির সামনে এসে হাকডাক ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় হামলায় মোহাম্মদ আলম (২৫) নামে বদরুজ্জামানের ছেলে আহত হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর সন্ত্রাসী হামলা, জায়গা দখলের চেষ্টা, চাঁদাদাবি এবং পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বদরুজ্জামান এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে বদরুজ্জামান বলেন, আমি ৩৭ বছর ধরে এই বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছি। আমার বসতঘর ভেঙে কাউকে জায়গা দিতে পারব না। আমি কোনো বিরোধ চাই না। কিন্তু আমাকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান এবং আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বসতঘর ভেঙে জায়গা দখলের চেষ্টা, চাঁদাদাবি ও হামলার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। সংবাদ সম্মেলনে বদরুজ্জামানের দুই ছেলে মোহাম্মদ আলম ও আব্দু শুক্কুর উপস্থিত ছিলেন।