প্রকাশ :: ... | ... | ...

বাঁশখালীতে জশনে জুলুসের র‌্যালিতে বাধা, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগ্রহীত

বাঁশখালী পৌরসভার ভাদালীয়া এলাকায় জশনে জুলুসের র‌্যালিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের ভাদালীয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অনুসারীরা উপজেলার বৈলগাঁও, কানুনগোপাড়া, বয়ানাকাটা ও মিনজিরীতলা এলাকা থেকে জশনে জুলুসে অংশ নিতে পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের ছিদ্দিকে আকবর তাহেরিয়া উম্মিদ আলী শাহ সুন্নিয়া মাদ্রাসায় জড়ো হন। পরে সেখান থেকে জুলুসটি ভাদালীয়া সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় ভাদালীয়া বড় মাদ্রাসার সামনে বাধার মুখে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। কওমি আকীদার অনুসারীদের দাবি, ওই এলাকায় একজন সুন্নি আকীদার বুজুর্গের কবরস্থান রয়েছে। সেটিকে মাজারে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। পাশাপাশি ওই এলাকায় আগে এ ধরনের জুলুসের গাড়ি প্রবেশ করেনি এবং ভবিষ্যতেও প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না—এমন অবস্থান থেকে তারা র‌্যালিতে বাধা দেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে সুন্নি আকীদার অনুসারীদের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে জশনে জুলুসের আয়োজন করেন। র‌্যালিটি নিয়ে যাওয়ার সময় কওমি আকীদার অনুসারীরা তাদের বাধা দেন এবং একপর্যায়ে হামলার চেষ্টা করেন বলে তারা অভিযোগ করেন। খবর পেয়ে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল হক দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শুদাংশু শেখর হাওলাদার, সেকেন্ড অফিসার আরিফ হোসেনসহ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনী বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং শান্ত থাকার আহ্বান জানান। জশনে জুলুসে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাজী মঈনুদ্দিন আশরাফী। এছাড়া ছিদ্দিকে আকবর তাহেরিয়া উম্মিদ আলী শাহ সুন্নিয়া মাদ্রাসার সিনিয়র উপদেষ্টা ও বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন, সুবহানিয়া মাদ্রাসার প্রধান মুহাদ্দিস আশেকুর রহমান আল-কাদেরী, আবুল কাশেম তাহেরি, ওয়াহেদুর রহমান আল-কাদেরী, সভাপতি মমতাজুল হক নওমি, সহসভাপতি হাজী রহমত আলী ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবুল কালাম রেজবীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। বাঁশখালী থানার ওসি রবিউল হক বলেন, “ঘটে যাওয়া ঘটনা সমাধানের জন্য স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামীকাল বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।” প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ মীমাংসায় রোববার প্রশাসনের উদ্যোগে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।