প্রকাশ :: ... | ... | ...

দু'দিনের কালবৈশাখী ঝড়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ও রামুতে পড়ে যাওয়া ধানক্ষেতের ক্ষতির আশংকা


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: মাঈনুদ্দিন খালেদ

মাঈনুদ্দিন খালেদ, নাইক্ষ্যংছড়ি বুধবার (২৯ এপ্রিল) দু'দিনের কালবৈশাখী ঝড়ে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও ককসবাজারের রামু উপজেলাতে কালবৈশাখী ঝড়ের ধমকা হাওয়ায় পড়ে যাওয়া বোরো মৌসুমের ধানক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে। দু 'উপজেলার বড় একটি অংশ এখনও ধান পাকে নি। থোড় আসছে মাত্র। এ সব ক্ষেতের ধানেই চিটা ধরার আশংকা করছেন কৃষকরা। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে এ তথ্য পান এ প্রতিবেদক। সুত্র মতে,নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় কৃষি ব্লক রয়েছে ১৫ টি। এখানে অন্তত ৮ হাজার কানিতে বোরো চাষ হয়েছে। এ সব চাষের কিছু অংশ পাক ধরেছে। আর অধিকাংশ ধান ক্ষেতে থোড় বের হচ্ছে আবার কিছু অংশে ক'দিন আগে বের হয়েছে। এরই মধ্যে ২৮ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল দু'দিনে কালবৈশাখী ঝড়ে বেশ কিছু ধানক্ষেত মাটিতে মিশে গেছে। কিছু অংশ কোমরভাঙ্গা হয়ে রয়েছে। এ সব ক্ষেতের ধান ক্ষেত নিয়ে কৃষকদের মাথা ব্যাথা। বাইশারীর কৃষক নুরুল আলম,ঘুমধুমের কৃষক আবদুচ্ছালাম ও সদর ইউনিয়নের কৃষক ছৈয়দ হোসেন বলেন,তাদের ধানক্ষেতের বেশ কিছু অংশ দু'দিনের কালবৈশাখী ঝড়ে ও ধমকা হাওয়ায় মাটিতে মিশে গেছে। যে গুলো থোড় বের হচ্ছে বা হয়েছে মাত্র। এখন এ সব ধানক্ষেতে কানি প্রতি ১শত আড়ি বা ৮০ আড়ি ধান পাওয়ার বুকভরা আশা নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন তারা। কিন্তু ধানক্ষেত পড়ে যাওয়ার ফলে এর ফলন অর্ধেকে নেমে আসবে। যা তাদের জন্য ক্ষতির আশংকা। এভাবে উপজেলার ৫ ইউনিয়নে অগণিত কৃষক ক্ষতির আশংকা করছেন ফলন কমে যাওয়ার ভয়ে। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইনামুল হক জানান,২ দিনের ঝড়ে ধান ক্ষেতের তেমন ক্ষতি হবে না। থোড় আসলে সামান্য ক্ষতি হবে। তিনি আরো বলেন এবারে অত্র উপজেলায় ৭ হাজার ৬ শত ৫০ কানি তথা ১২৩৯ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। যার অধিকাংশই ধান ক্ষেকে পাক ধরেছে। এসব ক্ষেতে ২ দিনে ঝড়ে কোন ক্ষতি হবে না। জুমিয়া ও সবজি চাষিরা পানির জন্যে হাহাকার করছিল। বৃষ্টি হওয়ায় তাদের লাভ হবে আরো। রামু উপজেলা কৃষি অফিসার সুশান্ত দেবনাথ শুভ বলেন,এবারে রামুর ৩৩টি কৃষি ব্লকে ৬৬৪০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এ সব ক্ষেতে অধিকাংশই পাক ধরেছে। বাকী যে গুলো আছে তা থোড় আসছে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়ে গেছে অথবা হেলে গেলে ধানের আংশিক ক্ষতি হবে। তিনি আরো বলেন,অনেক জায়গায় ধান কিছুটা হেলে গেছে তুফানে, উন্নত জাত হলে ফলনে প্রভাব খুব একটা না পড়লেও এমন বৃষ্টি চললাম থাকলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কবে এখানে করার কিছু নেই, যেহেতু এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।