প্রকাশ :: ... | ... | ...

বোয়ালখালী লবণ কারখানায় বিস্ফোরণ: একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে দিশাহারা পরিবার


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: দৈনিক দেশের কথা

বোয়ালখালী উপজেলা কনফিডেন্স লবণ কারখানায় অগ্নিদগ্ধ নিহত মো: দিদার আলম (৩২) বাড়িতে চলছে মাতম। স্বজন হারানোর শোকে কাতর পুরো পরিবার। নিহত মো: দিদার বোয়ালখালী পৌরসভার পশ্চিম গোমদন্ডী ৮ নং ওয়ার্ডের বদন আলী বাড়ির রুহুল আমিনের ছেলে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন এন্ড প্ল্যাষ্টিক সার্জারী ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত দিদারের স্ত্রী সন্তান নিয়ে পশ্চিম গোমদন্ডী বানু মেম্বারের টেক এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জন করা ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন তিনি দিশেহারা। এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরাও । আর তার অবুঝ পাঁচ বছরের জান্নাতুল মাওয়া আফরা ছোট মেয়ে বুঝতেই পারছে না সে কী হারিয়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে দিদারে স্ত্রী শারমিন আক্তার বলেন, আমার স্বামীর মৃত্যুতে সন্তানদের নিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেলাম। এখন আমাদের সংসার চালানোর মতো আর কেউ রইল না।কোম্পানি এবং সরকারের কাছে সহায়তার দাবি পরিবারের। শারমিন আক্তার আরো বলেন, ঘটনার দিন আমি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নাস্তা শেষে তিনি মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। তখন দিদারুল বলেছিলেন, 'তুমি যাও, মেয়ের পরীক্ষা শেষ করে আসো। আমি বাসায় আছি। স্কুলে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর একটি ফোন পাই । অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। তখনও আমি ধারণা করেছি আমার স্বামী বাসায় আছেন। পরে জানতে পারি তিনি কারখানায় গিয়েছিলেন এবং বিস্ফোরণের সময় ঘটনাস্থলেই ছিলেন। খবর পেয়ে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ছুটে যান। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, দিদারুলের শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। জীবন বাঁচাতে সব চেষ্টা চালানো হলেও বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। স্বামীর শেষ মুহূর্তের স্মৃতি তুলে ধরে শারমিন বলেন, 'শেষবার শুধু বলেছিল, আমাকে মাফ করে দিও। আমার মেয়েটাকে দেখে রেখো। তখন বুঝিনি, এটাই ওর শেষ কথা।' এলাকাবাসী নুরুল আবছার বলেন, দিদার ছিল পরিবারের একমাত্র উপাজর্নক্ষম ব্যাক্তি তার ছোট একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তার পরিবারের দিকে তাকিয়ে আর্থিক সহায়তা করার জন্য কারখানার কতৃর্পক্ষের নিকট অনুরোধ জানাচ্ছি। গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বোয়ালখালী পৌরসভার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার কনফিডেন্স সল্ট কোম্পানির কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ করার সময় হঠাৎ বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে ১০ শ্রমিক দগ্ধ হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে এখনো তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।