মহেশখালী প্রতাপশালীদের নেতৃত্বে চলছে অবৈধভাবে বালি বিক্রির রমরমা ব্যবসা। এতে সরকারও প্রতিবছর হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের চোখে ধুলি দিয়ে তারা এসব লাইসেন্স বিহীন গাড়ীর মাধ্যমে অবৈধ ব্যবসায় জড়ায় দ্বীপ ধ্বংসকারী বালি খেকোরা। এসন প্রশাসন বের হওয়ার আগে তারা সতর্ক। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের চাতুর্যপূর্ণ আচরণ টের না পেয়ে জব্ধ হলো বালিভর্তি অবৈধ ডাম্পাটি। গুণতে হলো অর্ধলাখ টাকার জরিমানা। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে কক্সবাজারের মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নে অবৈধভাবে বালিভর্তি ডাস্পার গাড়ীটি জব্ধ করেন উপজেলা প্রশাসনের একটি মোবাইল কোর্টের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। ওইসময় অবৈধভাবে বালি উত্তোলন ও পরিবহনের বিরুদ্ধে উপজেলার বিভিন্নস্থানে ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনার অংশবিশেষ হোয়ানকে বালিভর্তি গাড়ীটি জব্ধ করে অর্ধলাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। উপজেলা সূত্রে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সরকারি আইন অমান্য করে পাহাড় বা ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। খবরপেয়ে তাৎক্ষণিক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: আবু জাফর মজুমদার উক্ত এলাকায় মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযান চলাকালে বালিভর্তি ডাম্পারটি পয়েন্টে জব্ধ করতে সক্ষম হয়। এ সময় চালক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বালি উত্তোলনের বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করতে পারেন নি। তাই বালি উত্তোলনের দায়ে পরিবেশের ক্ষতিসাধন এবং আইন লঙ্ঘনের অপরাধে ‘বালিমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২’ এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে লিপ্ত হবেন না মর্মে মুচলেকা গ্রহণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মরত কর্মকর্তা মাঈন উদ্দীন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। উপজেলা প্রশাসনে এমন অভিযানকে স্বাগত জানান দ্বীপ প্রিয় সচেতনমহল ও স্থানীয়রা। তারা জানান উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এভাবে অবৈধভাবে পাহাড় কর্তন করে বালি-মাঠব বিক্রি করে যাচ্ছে অসাধু ব্যক্তিরা। তারা পুরো দ্বীপকে ধ্বংস করার প্রতিযোগীতায় নেমে প্রাণপ্রকৃতির তেরটা বাজাচ্ছে। এতে পরিবেশের চরম ক্সথি হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারকে রাজস্ব বঞ্চিত করছে। তাদের লাগাম টেনে ধরা এখন সুমময় মনে করেন পরিবেশবাদীরা। মহেশখালী উপজেলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবু জাফর মজুমদার জানান, শুধু বালি-মাঠি বিক্রি না, অবৈধ পন্থায় জড়াইয়ে কেউ ব্যবসা করে সরকারকে রাজস্ব বঞ্চিত করলে সাথে সাথে অভিযান চলবে।