প্রকাশ :: ... | ... | ...

মহেশখালী চ্যানেল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে প্রেসক্লাবের স্মারকলিপি প্রদান


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: এমকে হামিদ

‎পরিবেশ প্রতিবেশ ধ্বংস করে উন্নয়ন নয়! এভাবে বালু উত্তোলন করলে দেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপটি তলিয়ে যেতে যাওয়ার শঙ্কায় বসবাসকারীরা। মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দর অ্যাক্সেস সড়ক প্রকল্পে বালু সরবরাহের জন্য মহেশখালীর উপকূলীয় চ্যানেল থেকে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই বালু উত্তোলনের অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে মহেশখালী প্রেসক্লাব। মঙ্গলবার (৩ জুন) মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমারান মাহমুদ ডালিম এর মাধ্যমে ‎ কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর প্রদত্ত স্মারকলিপিতে মহেশখালী প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মাতারবাড়ি পোর্ট অ্যাক্সেস রোড প্রকল্পের আওতায় হামিদারদিয়া ও ঠাকুরতলা মৌজা থেকে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিধিবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ‎স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান Tokyu-MIL Joint Venture প্রথমে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BIWTA)-এর মাধ্যমে বালু উত্তোলনের উদ্যোগ নিলেও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পুনরায় বালু উত্তোলনের অনুমোদন নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ‎প্রেসক্লাবের দাবি, বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে প্রকল্পের প্রকৃত চাহিদা, রয়্যালটি নির্ধারণ এবং পরিবেশগত প্রভাব যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে রাষ্ট্রীয় রাজস্বের বিপুল ক্ষতির পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম হারে রয়্যালটি আদায়ের কারণে রাষ্ট্র শত শত কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। ‎এতে আরও বলা হয়, পরিবেশ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে লিখিতভাবে সতর্ক করেছে যে, পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ ছাড়া কোনো ড্রেজিং বা বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করা আইনবিরোধী। পরিবেশ অধিদপ্তরের মতে, উপকূলীয় চ্যানেল থেকে ব্যাপক বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন বৃদ্ধি, বসতভিটার ক্ষতি, জলপ্রবাহের স্বাভাবিকতা নষ্ট, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং উপকূলীয় ভূমিক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ‎মহেশখালী প্রেসক্লাবের নেতারা বলেন, মহেশখালীর তিন দিক ঘিরে থাকা উপকূলীয় এলাকায় অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যৎএ পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জনজীবনের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তাই পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীন সব ধরনের বালু উত্তোলন কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গীকারনামা বা কার্যাদেশ বাতিলের জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। ‎স্মারকলিপিতে মহেশখালীর উপকূলীয় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বার্থ রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়। মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদীন এবং সেক্রেটারি জিকির উল্লাহ জিকুর নেতৃত্বে ‎স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন মহেশখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল বশর পারভেজ, হারুনর রশিদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছালামত উল্লাহ, যুগ্ম সম্পাদক সাহাব উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক মকছুদুর রহমান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বশির উলাহ, নুরুল করিম, সুমন চন্দ্র দে ও মহিউদ্দিন প্রমুখ।