প্রকাশ :: ... | ... | ...

সোনাদিয়ায় প্যারাবন ধ্বংস করে বানানো হয়েছে মাছের ঘের বিপর্যয়ে পরিবেশ


সংযুক্ত ছবি

মহেশখালী দ্বীপের আরেক বদ্বীপ সোনাদিয়ায় প্যারাবন ধ্বংস করে প্রতাপশালীদের নেতৃত্বে চলছে ঘের নির্মাণের প্রতিযোগীতা। পরিবেশের ভারসাম্য হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে। দেখার যেন কেউ নেই। সংশ্লিষ্টদের দায়ছাড়া কথা! ‎ কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের ২নং ওযার্ড সোনাদিয়া দ্বীপটি ৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনে ১৯শত জনসাধারণের ৯৭৪ ভোটার এবং ৩১৬ বসতি রয়েছে। প্রতিকূল রক্ষা সোনাদিয়া দ্বীপে ২০ হাজার একর ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সম্বলিত সবুজ শ্যামলে ভরপুর জলবায়ু সহনশীল বন ছিলো। আ'লীগ সরকার পলায়নের আগমুহূর্ত থেকে ২৪ শের জুলাই আন্দোলন সরকার পর্যান্ত নির্বিচারে ম্যানগ্রোভ ফরেস্টসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কর্তন করে প্রায় ৫০টির অধিক ঘের নির্মাণ করেন বিত্তশালী এবং প্রতাপশালীরা। এমনকি শুধু কর্তন নয়! অতঃপর কর্তনকৃত বড়গাছগুলি অন্যত্রে সরিয়ে ফেলে আগাছাগুলির স্তুপ করে আগুণ দিয়ে পুঁড়াইয়া শেকড় (মূতা) পর্যন্ত ধ্বংস করা হয়েছে। বানানো হয়েছে মৎস্য চাষের উপযোগী ঘের। এতে শুধু জীববৈচিত্র্য ধ্বংস না; পরিবেশের ভারসাম্য নষ্টসহ উপকূল ধূলিসাৎএর শঙ্কা বাড়ছে। পরিবেশবান্ধব কৃষক প্রিয় নির্বাচিত বিএনপি সরকার আমলেও থেমে নেই ধ্বংসযজ্ঞের অবৈধ কর্মকান্ড। বনবিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নিরব থাকায় এভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো সাহস পেয়েছে পরিবেশ ও দ্বীপের শত্রুরা। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনী পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা পারপাচ্ছে বলে প্রত্যেক্ষদর্শীদের দাবী। তারা জানান বনবিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও তা যেন দস্যুদের সাহস বাড়িয়ে দেয়। এমন অভিযান গত ১ এপ্রিলও চালিয়ে একটি ফেরি জব্ধ করে ৩০ জনের বিরুদ্ধে একটি এজাহার দায়ের এবং এরপূর্বেও পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ২টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। এতে আসল দস্যুরা বাদপড়েছে বলে স্থানীয়দের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া। তবে গেল কয়দিন পূর্বে অভিযান পরবর্তী ৮জন বিশিষ্ট স্পেশাল টিমকে দায়িত্ব দেন বলে বনবিভাগ সূত্র নিশ্চিত করেন। কিন্তু এরপরও অবৈধ দখলদার ঘের মালিকেরা পানি নিষ্কাশনের পল্ববোড তৈরী এবং সীমানা প্রাচীরের মাঠির কাজ চলমান রেখেছেন বলে প্রতীয়মান হয়। এমনকি সোনাদিয়া টু ঘটিভাঙ্গার একমাত্র সড়কটিতে পানি বন্ধি করে মাছের ঘের বানিয়েছে দস্যুরা। কিভাবে করেছে তাও কিন্তু বনবিভাগ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি জানেনা। এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বস্তরের মাঝে। স্থানীয় ও প্রত্যেক্ষদর্শীরা তা লোছনে দেখেও প্রভাবশালীদের ভয়ে কিছু বলতে পারে না। এ যেন জনদূর্ভোগ সোনাদিয়া বাসীর কপাল থেকে যাচ্ছেনা। ‎এনিয়ে পরিবেশবাদী এবং সচেতন মহলের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে নানা কৌতূহল। এভাবে ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ধ্বংস করায় জ্বলোচ্ছ্বাস দূরের কথা; বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের সময়ও প্রভাব পড়তে পারে সোদিয়াসহ পুরো দ্বীপটির ওপর। ‎ ‎এদিকে স্থানীয় গিয়াস উদ্দীন, মনির এবং একাধিক জেলেসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত খেটে খাওয়া মানুষের আহাজারীতে যেন আকাশ ভারী। তারা জানান সোনাদিয়া এবং পূর্ব খালের পূর্বপার্শ্বে ঘটিভাঙ্গাস্থ পশ্চিমে যে ঘণপ্যারাবন ছিলো তা যেন মুখে প্রকাশ করে শেষ করতে পারতেছিনা। তখনকার সকাল-সন্ধ্যায় যেকোনো সময়ে একটু বের হয়ে খালের ধারে প্যারাবনের পাশে গেলে পর্যাপ্ত মাছ বা কাঁকড়া আহরণ করে জীবিকানির্বাহ করা যেত। তা দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে শান্তিতে দিন কাটত। এখন প্যারাবন নিধন করে যেভাবে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট, জ্বলোচ্ছ্বাসে ঝুঁকি ও জীবিকার্জনে বাঁধা সৃষ্টিসহ অসহায়ত্বে পড়েছি। এখন যদি মাছ, কাঁকড়া ধরতে হয় প্রায় ২/৩ঘন্টা দাড়িনৌকা বা ইঞ্জিনের বোট নিয়ে অজনা স্থানে যেতে হয়। তারা ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ধ্বংসকারী ও অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে উচ্ছেদের মধ্যদিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ স্থানে পুনঃরায় প্যারাবন সৃজন করে পরিবেশ ও দ্বীপ রক্ষার জোরালো আনুরোধ জানান সরকার বাহাদুর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট। ‎ ‎এদিকে বনবিভাগ থেকে এবিষয়ে জানতে চাইলে গোরকঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা আইয়ুব আলী জানান অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়েছে। তবে থানা প্রশাসন এখনো কাউকে আটক করেনি। ‎মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুস সোলতান থেকে জানতে চাইলে অবৈধকার্য পরিচালনাকারী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রযেছে। ‎ ‎মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান মাহমুদ ডালিম প্রতিবেদককে জানান, একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে সড়কস্থ জায়গায় বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি অবগত নয়। খোঁজ নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ‎