প্রকাশ :: ... | ... | ...

ছাত্রলীগের নেতৃত্বে সড়কে ব্যারিকেড; চালককে মারধর, অর্থ ছিনতাই


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত

মহেশখালী সড়কে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে সড়কে ব্যারিকেড; লাইসেন্সধারী চালককে মারধর, অর্থ ও গাড়ী ছিনতাই। খবর পেয়ে পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার পরবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ। ভোক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য পুলিশের উপস্থিতি শোনে অভিযুক্তরা গাঁ ঢাকা দেয়। সময়মতো পুলিশ না পৌঁছালে স্বামীকে জীবিত পাওয়া অসম্ভব। এমন লোমহর্ষ ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গতস্থরাত পৌনে ১০টা দিকে কক্সবাজার মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের ৩নং ও ৪নং এলাকা মারাক্কা ঘোনা, মাইজপাড়া এবং ইউনুছখালীতে। ‎ ‎মারধরের শিকার ভোক্তভোগী ড্রাইভার আবু তাহেরের বরাতে জানা যায়- বদরখালি থেকে কালারমারছড়া বাজারে যাওয়ার সময় ইউনুছখালী বাজার থেকে শস্ত্র একদল বখাটে মোটরসাইকেল, সিএনজি এবং টমটম যোগে ফিল্মস্টাইলে ধাওয়া করে মারাক্কাঘোনায় ব্যারিকেড দিয়ে চালককে বেধড়ক মারধর করে দোকারদারের চালানি ৩৪ হাজার, জমি বিক্রির ২৭ হাজার টাকা ও খুচরাসহ টাকাগুলি চিনিয়ে নেন। সেখান থেকে জিম্মি করে ইউনুছখালী বাজারে নিয়ে আসে। ওই সময় পানির তৃষ্ণায় হাঁহাঁকার হলেও এক গ্লাস পানি দেয়নি তারা। কিন্তু এক দোকানদার পানি দিয়ে আমার তৃষ্ণা নিবারণ করেন। বখাটে অভিযুক্ত আব্দুল হাকিম নামক বখাটে উল্টো হুমকি দেয়, কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে খুন করে রেহায় পেয়েছি। তুকে মারলে কি হবে। ‎ ‎খবর পেয়ে আবু তাহের ড্রাইভারের স্ত্রীসহ নিকটতম আত্মীয় স্বজন আসলে তাদের অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করারও অভিযোগ তুলেন। তারা কিন্তু অনেক আকুতি মেনতি করে, অভিযুক্ত সকল প্রতিশ্রুতি মানার আশ্বাস দিয়েও ছেড়ে নিতে পারেনি। ঘটনার খবরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা গা ঢাকা দিয়ে চলে যায়। সেখান থেকে পুলিশের সহায়তায় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রথমে কালারমারছড়ায়, সেখানে তার অবস্থায় মন্দ হওয়ায় মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে (সরকারী হাসপাতালে) চিকিৎসা করান। এমন ন্যাক্করজনক ঘটনায় নিন্দাসহ ডাকাতি করা ৬১হাজার টাকা ফেরত ও মারধরের ন্যায্য দাবী তোলেন স্থানী গণ্যমাণ্য ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট। ভোক্তভোগী পরিবার আরো জানান সড়কে এভাবে ব্যারিকেড দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করে মারধর ও লুটপাট চলাচলে সাধারণ মানুষের জীবনের শঙ্কায় ভোগছেন। এসব কাজে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরী। ‎ ‎আবুতাহের জানান- প্রতিদিনের ন্যায় গাড়ী সড়কে যাতায়ত করেন এবং বারীযানের লাইসেন্সধারী ড্রাইভার হওয়ায় এতদাঞ্চলের ছোট-বড় খুচরা-পাইকারী দোকানদারের খুবই বিশ্বাসী হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ওইদিন বিকেলে তিনি কালারমারছড়া আবছার সওদাগরের চালানি ৩৪ হাজার টাকা টমটম নিয়ে বদরখালী বাজারে মালামালের জন্য যাওয়া মুহুর্তে ঝাপুয়া গাড়ীর চাকা লিগ হয়, তা টিক করে বদরখালী বাজার পৌঁছানোর পূর্বে পাইকারী দোকান বন্ধ করা চালানি টাকার মালামাল ক্রয় করতে পারেনি। অন্যান্য ভাড়ায় কালারমারছড়া যাওয়ার প্রাক্কালে ইউনুছখালী বাজারে সিগ্নেল দেন, আমি গাড়ী চালিয়ে যাচ্ছি। তবে উৎপেতে থাকা সঙ্ঘবদ্ধ চক্রটি আমাকে ধাওয়া করে মাইজপাড়ায় ব্যারিকেড দিতে চেষ্টা করে, আমি বুঝে উঠে প্রাণ বাঁচাতে গাড়ী চালাচ্ছি। কিন্তু তারা মোটরসাইকেল, সিএনজি ও টমটম দ্রুত চালিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি লাতি-ঘুষি মেরে নিচে ফেলে দেয়। পরে সেখান থেকে জিম্মি করে নিয়ে আসে। তখন বুঝতে পারি আব্দুল হামিমের সাথে আমার লেনদেন আছে। ওইসময় আমি তাকে বলি আমি চোর ডাকাত নয়। এভাবে মারধর করে ধরে আনতে হয় কিনা? লেনদেনের অর্ধের বেশি টাকাও পরিশোধ করেছি। ‎ ‎এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ভোক্তভোগী পরিবার জানান- দেশের আ'লীগের অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ। তবে এরপর তারা আড়ালে বিভিন্নভাবে মিটিং, মিছিল করে সঙ্ঘবদ্ধ হচ্ছে। সুযোগ পেলে তারা মব সৃষ্টি করে বিভিন্ন অপকর্মে জড়ায়। ওইদিন ছাত্রলীগ নেতা সাঈদ মোহাম্মদ আনোয়ার হোছাইনের রূপরেখা এবং নেতৃত্বে আব্দুল হাকিম, আব্দুল্লাহ, আশেক, কাউছার রুবেলসহ ১০/১২ মিলে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটায়। ওই সময়ে পুলিশ না পৌঁছালে প্রাণ নাশের ঘটনা সংগঠিত হওয়ার আতঙ্কে ছিলো তারা। এমনকি ঘটনার পরবর্তী তারা সোল্যাল মিডিয়ায় উল্টাপাল্টা পোস্ট করে মানুষকে বিভ্রান্তি ছাড়াচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা, লুটকৃত টাকা ফেরত ও চিকিৎসা বাবদ খরচের দাবী রাখেন। ভোক্তভোগী পরিবার প্রতিকার চেয়ে মহেশখালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ে করেন। ‎ ‎মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুস সুলতান জানান, বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্ত সহকারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।