প্রকাশ :: ... | ... | ...

মাটি কাটার বিরোধে রাউজান রণক্ষেত্র— ট্রাক-ভেকু পুড়িয়ে দিল দুর্বৃত্তরা


সংযুক্ত ছবি

রাউজানে গভীর রাতে মাটি কাটা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গোলাগুলির পাশাপাশি মাটিকাটার যন্ত্র এক্সকাভেটর ও মাটি পরিবহনকারী দু'টি ড্রাম ট্রাক আগুনে দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাত আড়াইটার পর থেকে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ভোর পর্যন্ত উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম কদলপুর শমসের পাড়া সংলগ্ন নির্জন পাহাড়ি এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত সেলিম, রুস্তম, সালাউদ্দিন ও সাইমনসহ একটি গ্রুপ ওই এলাকায় কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছিল। এই কাজে বাধা দেয় জানে আলম ওরফে ‘ডাকাত আলম’-এর নেতৃত্বাধীন আরেকটি গ্রুপ। অভিযোগ রয়েছে, গত ১৫ এপ্রিল রাতে ডাকাত আলমের লোকজন তিনটি মাটি পরিবহনকারী ড্রাম ট্রাক ভাঙচুর করে এবং দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হামলা চালানো হয়। এ সময় খননকাজ চলাকালে অতর্কিত গুলিতে এক্সকাভেটর চালক মোহাম্মদ ফরহাদ আলম (২৩) পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া আরও অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আহত ফরহাদকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।গতকাল শুক্রবার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলেও কোন গ্রুপের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি বলে থানা সূত্রে জানা যায়। ঘটনার প্রসঙ্গে মাটিকাটার সাথে জড়িত সেলিম বলেন, রাতে আমরা কয়েকজন মিলে ওই এলাকায় মাটি কাটার কাজ করছিলাম। হঠাৎ করে জানে আলম প্রকাশ ডাকাত আলম আমাদের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমরা সেই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানাই। এর জের ধরেই সে তার বাহিনী নিয়ে অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। এতে আমাদের লোকজন আহত হয় ও ভেকু ড্রাইভার ফরহাদ গুলিবিদ্ধ হন। তারা আমাদের ভেকু ও দুইটি ড্রাম ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে আমাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।অন্যদিকে জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, তিনি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন এবং ঘটনাস্থলে যাননি। তার দাবি, অন্য একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ সাজেদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং দুটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে গোলাগুলির বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।