প্রকাশ :: ... | ... | ...

একটি সড়কের অপেক্ষায় দুই যুগ দুর্ভোগে পূর্ব আইলিখিলবাসী


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ

রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব আইলিখিল যেন এক অবহেলিত জনপদ। টিলা ভূমি ও কয়েকটি ইটভাটার মাঝামাঝি অবস্থিত এ গ্রামে প্রায় ৭০টি পরিবারের পাঁচ শতাধিক মানুষের বসবাস। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও তুলনামূলক বেশি। তবে দীর্ঘদিনেও মৌলিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এলাকাটিতে। গ্রামবাসীর একমাত্র ধর্মীয় উপাসনালয় । প্রতিদিন গ্রামের শতাধিক মুসল্লি এ মসজিদে নামাজ আদায় করতে যান। কিন্তু মসজিদে যেতে তাদের পাড়ি দিতে হয় প্রায় দুই হাজার ফুট দীর্ঘ খতবিক্ষত সড়ক। সরেজমিনে দেখা যায়, মসজিদের প্রবেশমুখে রয়েছে একটি বাঁশের সাঁকো ও একটি তক্তার তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এসব পার হয়ে মসজিদে যাতায়াত করছেন মুসল্লিরা। মসজিদে নেই কোনো অজুখানা কিংবা শৌচাগারের ব্যবস্থা। বিশাল বটবৃক্ষের ছায়াতলে মনোরম পরিবেশে অবস্থিত মসজিদটি এখনও উন্নয়নবঞ্চিত। মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন তৈয়বী বলেন, “মুসল্লিদের মসজিদে আসতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষাকালে পুরো রাস্তা কাদামাটিতে ভরে যায়। পানির স্রোতে বাঁশের সাঁকো ও তক্তার কালভার্ট তলিয়ে গেলে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে মসজিদে আসতে হয়। মসজিদের সামনে একটি স্থায়ী কালভার্ট ও সড়ক সংস্কার এখন সময়ের দাবি।” তিনি আরও জানান, সড়ক সংস্কারের জন্য পৌরসভায় লিখিত আবেদন করা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মসজিদের উপদেষ্টা বাহার সওদাগর, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, মোহাম্মদ পারভেজ, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, এমদাদ হোসেন, মোহাম্মদ মহরম আলী, জসিম উদ্দিন ও মোহাম্মদ মনির বলেন, “কাগজে-কলমে আমরা পৌর শহরের বাসিন্দা হলেও বাস্তবে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। প্রায় দুই যুগ ধরে একটি সড়কের জন্য সংগ্রাম করছি।” তারা বর্তমান সংসদ সদস্য র দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমরা আপনাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছি। আমাদের চাওয়া খুব সামান্য—সড়ক সংস্কার ও মসজিদের সামনে একটি স্থায়ী কালভার্ট নির্মাণ।” এ বিষয়ে র প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা বলেন, “পূর্ব আইলিখিল খামার টিলা মসজিদ সড়ক সংস্কারের একটি আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জুন মাসের বাজেট ঘোষণার পর আগামী অর্থবছরে সড়কটির উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।”