প্রকাশ :: ... | ... | ...

কার্পেটিং হয়নি পাঁচ সড়ক, রাস্তা ভাঙছে ঠিকাদার লাপাত্তা চরম ভোগান্তিতে মানুষ


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগ্রহীত

চট্টগ্রামের রাউজানে ঠিকাদারদের আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। এতে একদিকে যেমন জনসাধারণের দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে অসমাপ্ত কাজের কারণে নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলমান প্রায় শত কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অনেক ঠিকাদার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। ফলে বহু সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্টের কাজ মাঝপথে থেমে যায়।উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় স্থানীয়দের সহযোগিতায় এবং বিশেষ ব্যবস্থাপনায় উপ-ঠিকাদার নিয়োগ করে অর্ধেকের বেশি প্রকল্প শেষ করতে সক্ষম হলেও এখনও পাঁচটি বড় সড়কের কাজ আটকে আছে। এলজিইডি বলছে, পলাতক ঠিকাদারদের চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যারা ফিরছেন না, তাদের চুক্তি বাতিল করে পুনরায় টেন্ডার আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে।অসমাপ্ত সড়কগুলোর মধ্যে অন্যতম দক্ষিণ রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের ব্রাহ্মণহাট-পাঁচখাইন সড়ক। ১ কোটি ২০ লাখ টাকার এই প্রকল্পের কাজ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রমিতা কনসেন্ট্রেশন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেলেও দীর্ঘ সময়েও কাজ শুরু না করায় উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় থেকে একাধিক নোটিশ দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত নোটিশের পরও কাজ শুরু না হওয়ায় ঠিকাদারের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। হলদিয়া ইউনিয়নের ভিক্ষুভানুপুর সড়কের কাজ ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় পায় কাসেম এন্টারপ্রাইজ। মূল ঠিকাদার আত্মগোপনে যাওয়ার পর উপ-ঠিকাদার হিসেবে খোরশেদ আলম জিকু কাজ শুরু করেন। তবে কংক্রিট বালির কাজ শেষ করার পর গত চার মাস ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। উপ-ঠিকাদার খোরশেদ আলম জিকু জানান, বিটুমিন সংকট ও বাজারমূল্য বৃদ্ধির কারণে কার্পেটিং কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারি ভাবে বিটুমিন ক্রয়ের জন্য আবেদন করা হয়েছে।এই সড়ক নির্মাণ কাজ ২০২৬ সালের চলতি মাসে শেষ করার কথা ছিল। ডাবুয়া ইউনিয়নের কান্দিপাড়া সড়ক ও ধরবাড়ি দরগাহ সড়কের নির্মাণ কাজও একইভাবে থমকে আছে। ৭৩ লাখ টাকা বয়্য কান্দিপাড়া সড়ক নির্মাণ কাজ পেয়েছিল তাসফিয়া এন্টার প্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজটি ২০২৪ সালের শেষের দিকে শেষ হওয়ার কথা। ঠিকাদার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেন কাজটি কংক্রিট বালির কাজ শেষ করে কার্পেটিং কাজ ফেলে লাপাত্তা হয়েছেন। ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার ধরবাড়ি দরগাহ সড়কে কংক্রিট বালির কাজ শেষ হলেও কার্পেটিংয়ের কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদাররা লাপাত্তা হয়েছেন। বিশেষ করে ধরবাড়ি দরগাহ সড়কের কাজ পেয়েছিল গফুর আলী বোস্তামী এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মূল ঠিকাদার ও রাউজান পৌরসভার মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ আত্মগোপনে থাকায় কাজটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে।অন্যদিকে, হলদিয়া ইউনিয়নের রোস্তম শাহ্ সড়ক নির্মাণ কাজেও দেখা দিয়েছে একই সংকট। ৭৩ লাখ টাকার এ প্রকল্পে মূল ঠিকাদার লাপাত্তা হওয়ার পর উপ-ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনিও কাজ ফেলে রেখেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।সড়কটির কাজ ২০২৪ সালে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের শেষের দিকে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কাজ শেষ না হওয়ায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।এছাড়া চিকদাইর আকবর শাহ সড়কের প্রায় ৫০০ ফুট অংশ দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত পড়ে আছে। ৩৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার এই সড়কটির ঠিকাদার কাজী মাসুদ রানা কাজ শেষ না করেই লাপাত্তা হয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঠিকাদার ইচ্ছাকৃতভাবে কাজ ফেলে রেখে শত শত মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছেন। রাউজান উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম বলেন, “এলাকার মানুষের সহযোগিতায় অর্ধশতাধিক সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্টের কাজ শেষ করা গেছে। সময় বাড়িয়ে দিয়ে অনেক উপ-ঠিকাদারকে কাজ করতে সহায়তা করেছি। বাকি ৫-৬টি কাজ চলমান রয়েছে। বিটুমিন সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে কিছুটা ধীরগতি হলেও বর্ষা পুরোপুরি আসার আগেই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।”