প্রকাশ :: ... | ... | ...

রাউজানকে শান্তিপূর্ণ উপজেলা গড়ার ঘোষণা ডিসির


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, রাউজানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোনোভাবেই অবনতির দিকে যেতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর রাউজানে বেশ কয়েকটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। ভবিষ্যতে রাউজানকে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ উপজেলায় পরিণত করা হবে। মঙ্গলবার (১৯মে) বিকেলে রাউজান থানা পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক বলেন, রাউজানে অবৈধভাবে মাটি ও বালি কাটতে কাউকে অনুমতি দেওয়া হবে না। তিনি জানান, ইতোমধ্যে রাঙ্গুনিয়ায় সাতটি বালুমহাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে স্বার্থের সংঘাত ও সহিংসতা তৈরি হয়। তিনি আরও বলেন, সাতকানিয়ায় একদিনে ২৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং অবৈধভাবে বালি পরিবহনের অভিযোগে ৫০টি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। রাউজানেও অবৈধ মাটি ও বালি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাউজানে সাম্প্রতিক খুনের ঘটনার সঙ্গে অনুমোদনহীন মাটি ও বালি কাটার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, বিষয়গুলো তদন্তাধীন রয়েছে এবং খুনের রহস্য শিগগিরই উদঘাটন হবে। সরকারি দীঘি বা কৃষিজমি থেকে অনুমোদন ছাড়া মাটি কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, “সরকারি জায়গায় অনুমতি ছাড়া কারও হাত দেওয়ার সুযোগ নেই। কৃষিজমি কাটা এবং ভরাট— দুটিই অপরাধ। তাই দীঘি হোক বা কৃষিজমি, কোথাও অবৈধভাবে মাটি কাটা যাবে না। রাউজান থানায় প্রয়া এক মাস ওসির পদ শূন্য থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, রাউজানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একজন দক্ষ, সৎ ও চৌকস কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিতে সময় লাগছে। দ্রুতই উপযুক্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কের পাশে পশুর হাট বসানো যাবে না বলেও সতর্ক করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, যারা আইন অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে তিনি উপজেলা পরিষদে ভূমি সেবা সপ্তাহের উদ্বোধন, রাউজান অফিসার্স ক্লাবের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে প্রধান অতিথি হিসাবে রাউজান উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ, জেলেদের বিকল্প আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ এবং সমাজসেবা বিভাগের বিভিন্ন উপকারভোগীদের মাঝে এককালীন অনুদান তুলে দেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রাহাতুল ইসলাম সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।