চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের সর্তা খালের ভয়াবহ ভাঙনে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন অন্তত অর্ধশতাধিক পরিবার। খালের পাড় ধসে পড়ায় বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক ও আবাদি জমি যেকোনো সময় খালের গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙনের কবলে পড়েও কার্যকর কোনো স্থায়ী প্রতিকার না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা। সরেজমিনে দেখা যায়, রাউজান ও ফটিকছড়ি উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত স্রোতস্বিনী সর্তা খালের তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনে গত কয়েক দশকে খালের গর্ভে বিলীন হয়েছে শত শত একর ফসলি জমি, অসংখ্য বসতবাড়ি ও গ্রামীণ সড়ক। ফলে বহু পরিবার বাপ-দাদার স্মৃতিবিজড়িত বসতভিটা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে অন্যত্র গিয়ে নতুন করে বসতি স্থাপন করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল নামলেই সর্তা খালের ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। গত বছরও ভাঙনের কারণে কয়েকটি পরিবারের ঘরের আঙিনা খালের গর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে আরও অনেক বাড়িঘর ভাঙনের মুখে থাকায় দিন-রাত আতঙ্কে কাটছে এলাকাবাসীর। এলাকাবাসীর দাবি, নোয়াজিষপুর ইউনিয়নে প্রায় সাতশ মিটার দীর্ঘ একটি ইউটার্ন আকৃতির বাঁক খালের প্রবাহকে তীব্র করে তুলছে এবং এই বাঁকটিই মূলত ভাঙনের প্রধান কারণ। স্থানীয়দের মতে, এই বাঁকটি কেটে খাল সোজা করা গেলে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি পরিবার তাদের বসতভিটা রক্ষা করতে পারবে। ভাঙনের শিকার মিলন মাস্টার বাড়ির বয়োবৃদ্ধ নারী ঈষা দে বলেন, “সর্তা খালের এই বাঁক আমাদের নিঃস্ব করে দিয়েছে। একটু একটু করে আমাদের ভিটেমাটি খালের গর্ভে চলে যাচ্ছে। বাঁকটি কেটে সোজা করা হলে অন্তত আমরা আমাদের ভাঙা কুটিরে বেঁচে থাকতে পারতাম।” এলাকার নাসির মোহাম্মদ চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ সরোয়ার বলেন, “সর্তা খালের এই বাঁকটি এখন এলাকাবাসীর জনমদুঃখে পরিণত হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও অর্ধশতাধিক পরিবার তাদের বসতভিটা হারাবে।” ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরেকৃষ্ণ মহাজনের বাড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অনিল নাথ, রাধাশ্যাম, পরেশ, রাখাল, পূর্ণ, গোবিন্দ নাথ, সজল নাথ, চন্দন নাথ ও কাজল নাথসহ শতাধিক পরিবার ইতোমধ্যে খালের ভাঙনে তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। বিলীন হয়ে গেছে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ কানি ফসলি জমি। স্থানীয় বাসিন্দা সুবেল নাথ ও সজল নাথ বলেন, “বছরের পর বছর ধরে ভাঙনের শিকার হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। সর্তা খালের এই বাঁকা অংশটিই আমাদের দুর্ভোগের মূল কারণ। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকাই খালের গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।” এলাকাবাসীর দাবি, সর্তা খালের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধী প্রকল্প গ্রহণ করা এবং খালের বাঁকটি সোজা করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হোক। একই সঙ্গে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের মানুষকে দীর্ঘদিনের এই ভাঙন আতঙ্ক থেকে মুক্তি দেবেন।