প্রকাশ :: ... | ... | ...

সূর্যমুখীর হলুদ হাসিতে রাঙা রাউজানের মাঠ-ঘাট


সংযুক্ত ছবি

রাউজান চারদিকে শুধু হলুদ আর হলুদ ফুল। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, বিশাল আকারের হলুদ গালিচা বিছিয়ে রাখা হয়েছে। কাছে গেলেই চোখে পড়ে হাজার হাজার সূর্যমুখী ফুলের হাসি। মনমাতানো ঘ্রাণে বাতাস ভরে উঠেছে সৌরভে, আর মৌমাছিরা এক ফুল থেকে অন্য ফুলে ছুটে বেড়াচ্ছে মধু আহরণে। এমন অপরূপ দৃশ্য এখন দেখা যাচ্ছে রাউজান উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বিভিন্ন বিলে। চলতি মৌসুমে রাউজানে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে ব্যাপকভাবে। প্রতিটি সূর্যমুখী বাগানের সৌন্দর্য যে কারো নজর কাড়ছে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসছেন এসব বাগানে। দুপুরের পর থেকেই সূর্যমুখী ক্ষেতগুলো পরিণত হচ্ছে মানুষের মিলনমেলায়। কেউ ছবি ও সেলফি তুলছেন, আবার সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করছেন। কেউ কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে এসে উপভোগ করছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। বর্তমানে রাউজানের সূর্যমুখী বাগানগুলো দর্শনার্থীদের আনন্দ উৎসবে রূপ নিয়েছে। কৃষক রঞ্জিত চৌধুরী জানান, কুণ্ডেশ্বরী বিলে প্রায় দুই একর জমিতে তিনি সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত তার ক্ষেত পরিদর্শন করে পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের সহযোগিতায় কৃষিকাজে আরও উৎসাহ পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। রাউজান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুম কবির বলেন, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বিভিন্ন বিলে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ডাবুয়া, হলদিয়া, পূর্ব গুজরা ও পশ্চিম গুজরা এলাকায় চাষ বেশি হয়েছে। চলতি বছর প্রায় ১৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। এতে বীজ উৎপাদন হবে আনুমানিক ৬০ মেট্রিক টন এবং তেল উৎপাদন হবে ২০ থেকে ৩০ মেট্রিক টন। গত বছর ১৩ হেক্টর জমিতে চাষ হয়ে তেল উৎপাদন হয়েছিল ১৫ মেট্রিক টন। সূর্যমুখী তেলের উপকারিতা সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়ায় চাষের আগ্রহও বৃদ্ধি পাচ্ছে।