| ছবি: সংগ্রহীত
রাঙামাটি ২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড: দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ পত্র প্রত্যাহার এবং তাঁর মন্ত্রীত্ব পদে পুনর্বহালের দাবিতে রাঙামাটি ২৯৯ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া দু'জন সাবেক এমপি প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করেছে। বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) সকালে রাঙামাটি জেলা শহরের মারী স্টেডিয়ামের একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সংকট একটি জাতীয় ও প্রধান রাজনৈতিক সমস্যা। এই প্রধান রাজনৈতিক সমস্যা স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর ঐতিহাসিক 'পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, চুক্তির পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পার্বত্য অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দাদের দ্বারা ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও নির্বাচন বিধিমালা তৈরি না হওয়ায় আজ পর্যন্ত আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদসমূহের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। ফলে বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদগুলোর মাধ্যমে কার্যক্রম জোড়াতালি দিয়ে চলছে এবং আইন অনুযায়ী তাদের কার্যাবলী পূর্ণাঙ্গভাবে হস্তান্তরিত হয়নি। এর ফলে পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে এক ধরনের জটিল ও স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে, যা পার্বত্যবাসীদের জীবনমান উন্নয়ন ও নিরাপত্তাকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এমতাবস্থায়, সম্প্রতি নবগঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে যেভাবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে, তা ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তির মূল চেতনার সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক ও বিধিসম্মত নয়। পার্বত্য চুক্তির 'ঘ' খণ্ডের ১৯ নং অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে- “পাহাড়ীদের মধ্য হইতে একজন মন্ত্রী নিয়োগ করিয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হইবে এবং এই মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করিবার জন্য একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হইবে।” চুক্তির এই আইনি বাধ্যবাধকতাকে উপেক্ষা করে এবং পার্বত্য অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দাদের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থীভাবে বর্তমান মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ প্রদান করায় গভীর অসন্তোষ ও প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। অতএব, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন, পার্বত্য অঞ্চলের স্থায়ী শাসনব্যবস্থা কার্যকরকরণ এবং অঞ্চলের সামগ্রিক শান্তি ও শৃঙ্খলার স্বার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট নিম্নোক্ত দাবিসমূহ অত্যন্ত জোরালোভাবে পেশ করা হলো:- " পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ‘ঘ’ খণ্ডের ১৯ নং অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা ও মন্ত্রণালয়ের গতিশীলতা নিশ্চিত করতে মাননীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান-কে পুনরায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া। প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে অপসারণ ও পদ প্রত্যাহার: পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী এই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী পদের কোনো বিধান নেই। বিধায়, চুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক ও বিধি-বহির্ভূতভাবে নিযুক্ত বর্তমান প্রতিমন্ত্রী জনাব মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (মীর হেলাল)-কে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ হতে অবিলম্বে প্রত্যাহার ও অপসারণ করা এবং একইসাথে ভবিষ্যতে এই মন্ত্রণালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাহিরে কোন লোক কোনভাবেই প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী পদায়ন না করার বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করা হোক। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দ্যেশে তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিপ্রিয় মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল আপনি। আমরা আশা করি, আপনি উপরোক্ত যুক্তিসঙ্গত ও আইনগত দাবিসমূহ বিবেচনা করে পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি এবং সুশাসন ফিরিয়ে আনতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি ২৯৯ আসনে স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ফুটবল প্রতীক নিয়েপহেল চাকমা, ট্রাক প্রতীক নিয়ে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আবুল বাশার নয়ন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া কোদাল প্রতীক নিয়ে বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির প্রার্থী জুঁই চাকমা, হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জসীম উদ্দীন, নাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী অশোক তালুকদার এ সংবাদ সম্মেলনের দাবি সমূহে সংহতি প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন সংবাদ সম্মেলন করা ২ প্রার্থী।