প্রকাশ :: ... | ... | ...

হাসল মা, বাঁচল শিশু, রাঙামাটির চিকিৎসকদের অনন্য মানবিক কীর্তি


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: মঈন উদ্দিন বাপ্পি

মো: আদিয়ান, বয়স মাত্র ০৩ দিন। বাসা রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার এলাকায়। পৃথিবীতে জন্ম নিয়েই মৃত্যুর কাছাকাছি চলে যেতে যায় আদিয়ান। দিন মজুর বাবার সন্তান আদিয়ান জটিল জন্মগত রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। রোববার (২৪ মে) শিশুটির পরিবার শিশুটির শারীরিক সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করায়। রাঙামাটি সদর হাসপাতালের চিকিৎসকগণ জানান, শিশু আদিয়ানের ফেটে যাওয়া 'মায়েলোমেনিনগোসিল' রোগে আক্রান্ত। অর্থাৎ এটি একটি জন্মগত ত্রুটি যেখানে মেরুডন্ডের হাড় সঠিকভাবে জোড়া না লাগায় স্নায়ুরজ্জু বের হয়ে যায়। যদি ডেলিভারির সময়ে অথবা জন্মের পর কোন কারনে ইহা ফেটে যায় তাহলে ফেটে যাওয়া অংশ দিয়ে সর্বক্ষণ স্নায়ুরস বের হতে থাকে। যদি জরুরি ভিত্তিতে এটা বন্ধ করা না হয় তাহলে শিশুর ব্রেইন এ সংক্রমণ হয়ে শিশুর মৃত্যুঝুঁকি থাকে। আদিয়ানের বাবার আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় সীমাবদ্ধতার বাহিরে গিয়ে এই প্রথম রাঙামাটিতে জটিল অপারেশনটি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাঙামাটি সিভিল সার্জন ডাঃ নূয়েন খীসা বলেন, আমরা সেদিন বলেছিলাম আমরা দিন দিন আমাদের সামর্থ্য ও সক্ষমতা বাড়াবো । আদিয়ানের অপারেশনটিতে ১০০% নিশ্চিত মৃত্যুর ঝুঁকি ছিলো, আবার অপারেশন না করলেও মৃত্যুর ঝুঁকি ছিলো। শিশু আদিয়ানের পরিবারের মুচলেকা নিয়ে ২৪ মে দুপুরে আমাদের পেডিয়াট্রিক সার্জন ডাঃ সবুজ কান্তি ও ডাঃ সাগর নন্দী (এনেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ) এই প্রথম এতো জটিল একটি সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন করেন। রাঙামাটি সদর হাসপাতালে এই প্রথম এতো ছোট শিশুর এমন জটিল অপারেশন করা হয়েছে। সিভিল সার্জন আরও বলেন, বিষয়টি আমাদের জন্য প্রচুর ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় ছিলো, আমাদের সীমাবদ্ধতার বাহিরে ছিলো। এ ধরনের অপারেশন সাধারণত জেলা হাসপাতালে করা হয় না। কিন্তু আমাদের চিকিৎসকগন আদিয়ানের পরিবারের সকল দিক বিবেচনা করে কাজটি করেছেন। চোখের সামনে শিশু আদিয়ানের মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছিলাম না। তাই চিকিৎসকগন দায়িত্ববোধ এবং সাধারণ প্রান্তিক জনগণের প্রতি অঙ্গীকার থেকে আদিয়ানের পৃথিবীতে বেঁচে থাকা নিশ্চিত করেছেন। সিভিল সার্জন এবং রাঙামাটি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা : মুহাম্মদ শওকত আকবর খান হাসপাতালের পুরো সার্জারি টিমকে অভিনন্দন ও আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এ ধরনের দায়িত্বশীল কাজের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।