প্রকাশ :: ... | ... | ...

ঐতিহ্যবাহী গুমাইবিলের মহিষে জমজমাট রাঙ্গুনিয়া শান্তিনিকেতন হাট


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: মোহাম্মদ তৈয়্যবুল ইসলাম

ঈদুল আজহার উপলক্ষে কোরবানির পশু কিনতে ক্রেতাদের ভিড় জমছে উত্তর চট্টগ্রামের একমাত্র মহিষের হাট — রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ব্রহ্মোত্তর শান্তিনিকেতন মহিষ বাজারে। যেদিকে চোখ যায়, শুধু মহিষ আর মহিষ। গুমাইবিলের মাঠে-ঘাটে প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা এসব মহিষের চাহিদা এবার আগের চেয়ে বেশি। এবার হাটে প্রায় ৫শতাধিক মহিষ তোলা হয়েছে। সর্বোচ্চ সাড়ে ৮ মণ থেকে সর্বনিম্ন আড়াই মণ পর্যন্ত মহিষ রয়েছে বাজারে। মণপ্রতি দাম ৩২-৩৩ হাজার টাকা। সে হিসেবে সর্বনিম্ন ৮০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকার মহিষও রয়েছে এই হাটে। ক্রেতাদের আকর্ষণের মূল কারণ একটাই — রাঙ্গুনিয়ায় কোথাও ইনজেকশন বা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজাকরণ করা হয় না। গ্রামের মাঠ-ঘাটে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা এই মহিষগুলোতে রোগবালাইও তুলনামূলক কম। ফলে দেশীয় গরুর দাম বেশি হওয়ায় এবং বাইরের গরুর সরবরাহ কম থাকায় এবার মহিষের দিকেই ঝুঁকছেন ক্রেতারা। মহিষ ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন জানান, ঈদের মৌসুমে সরবরাহ বাড়ায় স্বাভাবিক বাজারদরের তুলনায় প্রতিটি মহিষ ২-৩ হাজার টাকা কম-এ পাওয়া যাচ্ছে। তবে কোরবানির পরপরই দাম ফের বেড়ে যায় বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান, গত বছর কোরবানির পর ৩০টি মহিষ গড়ে ৩০-৩৫ হাজার টাকায় কিনে এক বছর লালন-পালন করেছেন। সেই খরচ মহিষপ্রতি আরও ২৫-৩৫ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। পরিবহনসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় যোগ করলে প্রতিটি মহিষ ৮০-৯০ হাজার টাকায় বিক্রি না হলে লাভ থাকে না। রাউজান থেকে আসা ক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, "প্রতি বছরই এই হাট থেকে মহিষ কিনি। গতবারের চেয়ে দাম একটু বেড়েছে, তবে মহিষ কিনতে পেরে সন্তুষ্ট।" শান্তিনিকেতন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ইসমাঈল সিকদার জানান, হাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই নিরাপদে বেচাকেনা করতে পারছেন। ভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরাও নির্বিঘ্নে মহিষ বিক্রি করছেন। মহিষের বাজার ঈদুল আজহার আগের দিন পর্যন্ত মিলবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বৃহত্তম মহিষের হাটে কোনো হাসিল নেই। স্থানীয় মাদ্রাসার জন্য ক্রেতাদের সন্তুষ্টি অনুযায়ী নামমাত্র চাঁদা গ্রহণ করা হয়। উত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই মানুষ আসছেন এই হাট দেখতে এবং পছন্দের মহিষটি কিনে নিতে। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, শান্তিনিকেতনের হাট ততই জমে উঠছে।