| ছবি: মোহাম্মদ তৈয়্যবুল ইসলাম
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১ নম্বর রাজানগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হালিমপুর এলাকায় অবস্থিত আশোবা ওয়াজেদ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলো পৌঁছে দিচ্ছে। ২০১৯ সালে এলাকার কৃতি সন্তান অধ্যাপক ডাক্তার ওয়াকিল আহমদ তার মরহুম পিতা-মাতার নামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার সাত বছরে অসংখ্য শিক্ষার্থী এখান থেকে পড়াশোনা করে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টি প্রাথমিক স্তর ছাড়িয়ে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চালু করেছে এবং প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করছে। আশেপাশের হালিমপুর, বাইশ্যের ডেবা, গাজী বাড়ী, বাইশ্যের বাড়ী, মোহাম্মদপুর, দরবানীর বাড়ী ও ফুল বাগিচা গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এক থেকে দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে বিদ্যালয়ে আসে। তবে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে যাতায়াতের একমাত্র কাঁচা সড়কটি। শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষা এলেই সড়কটি কাদামাটিতে ভরে যায় এবং হয়ে ওঠে সম্পূর্ণ অচল। ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, শুষ্ক মৌসুমে তারা নিয়মিত স্কুলে আসতে পারলেও বর্ষাকালে রাস্তার কারণে আর আসা সম্ভব হয় না। একই অভিযোগ অভিভাবকদেরও। স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, “বর্ষাকালে রাস্তার অবস্থা এত খারাপ থাকে যে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো সম্ভব হয় না। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একরাম হোসেন জানান, “শুষ্ক মৌসুমে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলেও বর্ষা এলেই উপস্থিতির হার অনেক কমে যায়। সড়কের দুরবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা আসতে পারে না। স্থানীয় বাসিন্দা বখতেয়ার উদ্দিন বলেন, “এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এলাকায় শিক্ষার প্রসার ঘটেছে। কিন্তু সড়কের কারণে বর্ষাকালে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা জরুরি।” এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নতুন সংসদ সদস্য হুমান কাদের চৌধুরীর কাছে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে এমপির প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ চৌধুরী জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হবে। এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কার করে বর্ষা মৌসুমেও চলাচল উপযোগী করা হোক।