প্রকাশ :: ... | ... | ...

কেএনএ এর অপতৎপরতা রুখতে সতর্ক থাকার আহ্বান,শরণার্থী পুনর্বাসনের আশ্বাস রুমা জোন কমান্ডার


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: অংবাচিং মারমা

বান্দরবানের রুমা উপজেলার বেথেল পাড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে স্থানীয় জনগণ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ধর্মীয় স্বাধীনতা, আঞ্চলিক শান্তি-শৃঙ্খলা, সন্ত্রাসবিরোধী সচেতনতা এবং মিজোরাম থেকে ফিরে আসা শরণার্থীদের পুনর্বাসন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার,এসবিপি,পিএসসি। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন গির্জার পাস্টর, বম সোশ্যাল কাউন্সিল (বিএসসি)-এর সদস্যবৃন্দ, কারবারি,হেডম্যান এবং বেথেল পাড়ার সাধারণ জনগণসহ প্রায় ১শত ৫৫ জন প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় জোন কমান্ডার ধর্মীয় অনুশীলন ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে পাস্টরদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে ধর্মীয় অনুশীলন ও কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধা বা সীমাবদ্ধতা নেই। তিনি বম সম্প্রদায়ের মধ্যে পাস্টরদের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও নৈতিক নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে সশস্ত্র সংগঠন কেএনএ (কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি)-এর বিভিন্ন অপতৎপরতা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি পাস্টরদের প্রতি কেএনএর ভয়ভীতি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করা, তাদের কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা না দেওয়া এবং সংগঠনটির সদস্যদের আত্মসমর্পণে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভারতের মিজোরামে অবস্থানরত শরণার্থীদের নিজ নিজ ঘরে ফিরে আসতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখারও অনুরোধ করেন। জোন কমান্ডার বলেন,বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে জনগণের মধ্যে যে ধরনের উদ্বেগ বা আশঙ্কা সৃষ্টি হতে পারে, তা দূর করতে স্থানীয় নেতৃত্বকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সভায় তিনি বর্তমান এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল ও নিয়ন্ত্রণে উল্লেখ করে অতীতের অস্থিতিশীল সময়ের সঙ্গে এর তুলনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রাকে আরও নিরাপদ, স্বাভাবিক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, কেএনএ বর্তমান শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের অপচেষ্টা চালাতে পারে এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে ভয়ভীতি ছড়িয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। মিজোরাম থেকে ফিরে আসা বম শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন প্রসঙ্গে জোন কমান্ডার জানান,দেশে ফিরে আসা শরণার্থী পরিবার এবং বিভিন্ন মামলায় জেল থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এছাড়া কেএনএর কোনো সদস্য আত্মসমর্পণ করলে তাকে পুরস্কৃত করা হবে এবং পুনর্বাসনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সভা শেষে জেল থেকে জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও ভারতের মিজোরাম থেকে ফিরে আসা পরিবারসহ মোট ৫৬টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে জোন কমান্ডার বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ দেশের সাধারণ মানুষের সেনাবাহিনী। শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উন্নয়নমুখী জীবন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে স্থানীয় জনগণের পাশে থাকবে। মতবিনিময় সভাটি স্থানীয় জনগণের মধ্যে আস্থা, সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন।