প্রকাশ :: ... | ... | ...

রুমার পাইন্দু ইউনিয়নের সেনাবাহিনীর জনকল্যাণমূলক সহায়তা


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: অংবাচিং মারমা

বান্দরবানের রুমা উপজেলার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর -উদ্যোগের ১নং পাইন্দু ইউনিয়নের দুর্গম বিভিন্ন পাড়ায় জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়ন,সুপেয় পানির ব্যবস্থা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহায়তার লক্ষ্যে বিভিন্ন সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। গত-১০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে -৩৬ বীর রুমা জোনের উদ্যোগের পাইন্দু ইউনিয়নের প্রায়-৯টি পাড়ার মানুষের মাঝে এসব সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। রুমা জোনের জোন কমান্ডার মোঃ মেহেদী সরকার,পিএসসি,এসবিপি-এর উপস্থিতিতে মুনন্নুয়াম পাড়া মাঠ প্রাঙ্গণে সুপেয় পানি সরবরাহের পাইপ,এক হাজার লিটার-১ টি,২ হাজার লিটার-২ টি ৫ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংক,সাবমার্সিবল পানির পাম্প,জেনারেটর, সাউন্ডবক্স,সৌরবিদ্যুৎ সোলার প্যানেল,সোলার ব্যাটারি,সেলাই মেশিন,ফুটবল,ভলিবলসহ সংশ্লিষ্ট পাড়া ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের হাতে সহায়তা সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন মেজর রাব্বি,ক্যাপ্টেন বাবুল,লাললিয়ান সম সাইলুক(পালিয়ান হেডম্যান),পাইন্দু ইউনিয়নের ওয়ার্ড মেম্বার ময়থান বম ও বিভিন্ন পাড়া থেকে কারবারি ও যুবক যুবতীরাসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্থানীয় পাড়া কার্বারী ও জনপ্রতিনিধিরা বলেন সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানির সংকট নিরসন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে এসব সরঞ্জাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বাসলাং পাড়ার কার্বারী তংআল বম বলেন, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ভলিবল ও নেটসহ প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সামগ্রী পাওয়ায় স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়বে। এ ধরনের সহযোগিতায় তারা আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। হ্যাপীহিল পাড়ার কার্বারী লাল মুং বম বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় আমাদের পাশে থাকার চেষ্টা করে। তাদের এই সহযোগিতায় আমরা অত্যন্ত খুশি। দুর্গম এলাকায় মানুষের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে এমন সহায়তা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষ আরও উপকৃত হবে। চাইরাগ্রং পাড়ার কার্বারী মংচ মারমা বলেন,আমাদের পাড়ার জন্য-৫ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংক ও সাবমার্সিবল পানির পাম্প পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে পাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। স্থানীয়রা জানান,পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ ও সামাজিক অবকাঠামোর সংকট রয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনভিত্তিক এসব সহায়তা পাওয়ায় স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। জোন কমান্ডার বলেন,বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় পার্বত্য এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে এবং দুর্গম পাহাড়ি জনপদের দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। শান্তি,সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ভবিষ্যতেও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি পাড়া কারবারি ও পাড়াবাসীদের উদ্দেশে বলেন,একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তুলতে হলে সবাইকে মাদকদ্রব্য ও জুয়া থেকে দূরে থাকতে হবে। নিজেদের পাশাপাশি সন্তানদেরও সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। ছেলে-মেয়েদের নিয়মিত পড়াশোনার প্রতি উৎসাহিত করে সুশিক্ষিত ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন এলাকার কোনো মানুষ চিকিৎসাসেবা,শিক্ষা কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে সমস্যার সম্মুখীন হলে নির্দ্বিধায় রুমা জোনে এসে সহযোগিতা চাইতে পারেন। মানুষের কল্যাণে আমার দরজা সবার জন্য সবসময় খোলা রয়েছে।এবং পারস্পরিক সহযোগিতা,সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ,মাদক ও জুয়ামুক্ত এবং উন্নত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য স্থানীয় জনগণ,জনপ্রতিনিধি, পাড়া কারবারি ও তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।