প্রকাশ :: ... | ... | ...

রুমায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত হয়েছে


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: অংবাচিং মারমা

উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-পালিত হয়েছে। ৬ জুলাই সকাল-১১টায় রুমা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি),যৌথ উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রকাশ চাকমা। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা আক্তার বিথী। আরও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি,বিআরডিবির সদস্য,স্থানীয় উদ্যোক্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন । প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা আক্তার বিথী বলেন,দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তি হলো শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতি। আর সেই অর্থনীতিকে গতিশীল করতে উদ্যোক্তা সৃষ্টি, আত্মকর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন,সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ও আর্থিক সহায়তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে যুবসমাজ ও নারীরা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।এবং উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় প্রত্যেক নাগরিককে বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। একটি সবুজ,নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিরও আহ্বান জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রকাশ চাকমা বলেন,বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) দীর্ঘদিন ধরে ঋণ,সঞ্চয় ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন,দারিদ্র্য বিমোচন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন,ঋণের সঠিক ব্যবহার,উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ এবং নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ নিশ্চিত করা গেলে আরও বেশি উদ্যোক্তাকে এই কার্যক্রমের আওতায় এনে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন,সরকারের পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রম দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন,দারিদ্র্য হ্রাস,নারীর ক্ষমতায়ন, টেকসই কৃষি ব্যবস্থা,ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান,জনপ্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী এবং সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। অনুষ্ঠান শেষে নির্বাচিত উদ্যোক্তা উক্যচিং মার্মা, রাজিব দাশসহ মোট তিনজন উদ্যোক্তার প্রত্যেকের হাতে এক লাখ টাকা করে ঋণের চেক তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রত্যেক উদ্যোক্তার হাতে তিনটি করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং স্মার্ট, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গঠনে এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।