প্রকাশ :: ... | ... | ...

লামায় তামাক কোম্পানির সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি ট্রাফিক পুলিশ


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: মোঃ তৈয়ব আলী

বান্দরবানের লামা-ফাঁসিয়াখালী সড়ক যেন মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ট্রাক-পিকআপ- কাভার্ডভ্যান গাড়ী ওভারলোড তামাকপাতা বোঝাইয়ের কারনে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা পঙ্গু করে দিচ্ছে অনেককেই। পণ্যবাহী গাড়ি চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটি এর সক্ষমতার ঘাটতি এবং পণ্যবাহি গাড়িতে অতিরিক্ত তামাকপাতা লোডিং এর কারনে একটি প্রভাবশালী চক্রের এখাতে চাঁদা আদায়ের উৎস হওয়ায় বন্ধ করা যাচ্ছেনা ওভারলুডিং। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লামা উপজেলার বিভিন্ন সড়কগুলোতে পন্যবাহী গাড়িগুলো ধারণক্ষমতার অনেক বেশি পণ্য বহন করে। সর্বোচ্চ ১০ টন মালামাল বহনের ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানগুলিও অতিরিক্ত মুনাফা লাভে ২০ থেকে ৩০ টন মালামাল বহন করছে। এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশ একাধিকবার এটি থামানোর চেষ্টা করেও সুফল আসেনি। স্থানীয়রা বলছেন,পাহাড়ি আঁকাবাঁকা ও ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়কে ট্রাক-পিকআপ- কাভার্ডভ্যান গাড়ী বেপরোয়া চলাচলে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই, অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, দুর্বল অবকাঠামো, ট্রাফিক আইনের শিথিল প্রয়োগ এবং বান্দরবান সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা, দূর্ঘটনার প্রধান কারণ। এছাড়াও ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব অবহেলার সুযোগে অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি মাসে তামাকপাতা বোঝাই ট্রাক-পিকআপ- কাভার্ডভ্যান গাড়ীতে অতিরিক্ত পন্য লোডিং এর কারনে বাড়ছে দূর্ঘটনা। অধিক মুনাফার আশায় অধিকাংশ ট্রাকেই নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত তামাকপণ্য বোঝাই করা হয়। ফলে যানবাহনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি সড়কে অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ট্রাক চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ঢালু ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকসমূহে ভারী ট্রাক চলাচলের ফলে সড়কে ফাটল, গর্ত ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এই ঝুঁকি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক অতিরিক্ত তামাক বোঝাই করে ট্রাক যাতায়াত করছে। ট্রাকের বডির বাইরেও বিপজ্জনকভাবে মালামাল ঝুলে থাকে এবং তার ওপর বসে ভ্রমণ করছেন শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীরা। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা ও ঢালু সড়কে এ ধরনের ওভারলোডিং যে কোনো সময় ট্রাক উল্টে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তামাক কোম্পানীর ওভারলোড গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অপারগ ট্রাফিক বিভাগ। কারন স্থানীয় কিছু উগ্র ব্যক্তিকে পরিবহন দেখাশোনের জন্য রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে লামা ট্রাফিক ইনচার্জ আশিক রায়হান বলেন, আমরা আমাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছি। মে মাসে টার্গেট নিয়ে কাজ করছি। গত সপ্তাহে অভিযানে ৬টি মামলা ও জরিমানা করা হয়। ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।