| ছবি: দেলোয়ারের হোসেন রশিদী
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় কবরস্থানের মাঝখানে সীমানা প্রাচীর দিয়ে শতবর্ষী কবরস্থান দখলের অভিযোগে মানববন্ধন করেছে খালাদাদ খাঁন জামে মসজিদের মুসল্লি ও স্থানীয় জনসাধারণ। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে লোহাগাড়ার কলাউজান ২ নং ওয়ার্ড খালাদাদ খাঁন জামে মসজিদ কবরস্থান এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা। মানববন্ধনে এলাকাবাসী বলেন, কলাউজানের সাবেক চেয়ারম্যান মৌলভী ইদ্রিস ও তার দুভাই আবুল বশর ও আনোয়ারসহ আরো কয়েকজন মিলে শতবর্ষী কবরস্থানটি দখলের পাঁয়তারা করছে। তারা সম্প্রতি জেলা পরিষদের একটি বরাদ্দ নিয়ে শতবর্ষী কবরস্থানের উপর পাকা দেওয়াল নির্মাণ করার চেষ্টা করছে। এলাকার সাধারণ জনগণ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এধরনের কর্মকান্ড কখনো মেনে নেবেন না। এসময় মানববন্ধনে স্থানীয় জনতা এবং মুসল্লিরা অভিযোগ করে বলেন, কথিত জমির মালিক পরিচয়দানকারী মৌলভী ইদ্রিস উত্তর কলাউজান খাঁলাদাদ খাঁন জামে মসজিদের শতবর্ষী কবরস্থানটি বিভাজন করার জন্য নানা অপপ্রচার ও চক্রান্ত চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি তিনি একটি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ সম্মেলন করেছেন, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন। মানববন্ধনকারীরা এসময় আরও বলেন, কবরস্হানটির আশেপাশের প্রায় শত পরিবারের কবরস্থান হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু সম্প্রতি চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ হতে কবরস্থান উন্নয়ন ও সংস্কারের নামে ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ এনে কবরস্হানের মাঝখানে সীমানা প্রাচীর নির্মান করে শত বছরের প্রাচীন কবরস্থানটি চেয়ারম্যান পরিবারের একক দখলে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। সীমান প্রাচীরটি সার্বজনীন না হয়ে পারিবারিক কবরস্হান বানানোর পায়তারা করা হচ্ছে। যার কারণে ভবিষ্যতে লাশের দাফনকাজে বাঁধা সৃষ্টি হবে বলে আশংকা করছেন তারা। এই শতবর্ষী কবরস্থানটি এলাকার একটি সার্বজনীন সম্পত্তি। একটি মহল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন কাজ ব্যাহত করতে এবং কবরস্থানটি দখল করতে বিভিন্নভাবে পায়তারা করছে। এমনকি প্রাচীনতম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান খাঁলাদাদ খাঁন জামে মসজিদ পূণনির্মাণ কাজেও তারা বাধা প্রদান করছে। বিষয়টির সুষ্ট সমাধান না হলে এলাকায় যেকোন উত্তপ্ত পরিস্হিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে এবং এর প্রতিকার চেয়ে এলাকাবাসির পক্ষে শিহাব উদ্দীন নামক স্থানীয় একজন আইনজীবি শতাধিক গ্রামবাসির স্বাক্ষর সম্বলিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগে কলাউজানের সাবেক চেয়ারম্যান মৌঃ ইদ্রিস তার দুভাই আবুল বশর ও আনোয়ারসহ আরো ৭জনকে বিবাদী করা হয়েছে।