| ছবি: দেলোয়ার হোসেন রশিদী
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হিসেবে ৮০ জন উপকারভোগীর মাঝে প্রায় ৯০ লাখ ৯০ হাজার টাকার লভ্যাংশের চেক বিতরণ করা হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপকারভোগীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চেক তুলে দেওয়া হয়। শুক্রবার (২২ মে) সকালে চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জ অফিস প্রাঙ্গণে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মো. ইয়াছিন নেওয়াজ। চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুনতি বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা নূর জাহান, চুনতি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্বাস উদ্দিন, ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনজুর আলম এবং চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বিট কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার দত্তসহ বন বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। বন বিভাগের তথ্যমতে, তিনটি ক্যাটাগরিতে উপকারভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরের ১৫ হেক্টর বাগানের ১৫ জন উপকারভোগীকে প্রতি জন ২ লাখ ১৩ হাজার টাকা করে মোট ৩১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, ২০০৬-০৭ অর্থবছরের ১৫ হেক্টর বাগানের ১৫ জনকে প্রতি জন ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা করে মোট ২৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং ২০০৭-০৮ অর্থবছরের ২৫ হেক্টর বাগানের ৫০ জন উপকারভোগীকে প্রতি জন ৬৩ হাজার টাকা করে মোট ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।সব মিলিয়ে ৮০ জন উপকারভোগীর মাঝে মোট ৯০ লাখ ৯০ হাজার টাকার লভ্যাংশের চেক বিতরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, সামাজিক বনায়ন এখন শুধু পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের শ্রম ও পরিচর্যার ফল আজকের এই লভ্যাংশ বিতরণ। চেক পেয়ে উপকারভোগীরা সরকারের এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও বন সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। স্থানীয়দের মতে, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হলে টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।