| ছবি: দেলোয়ারের হোসেন রশিদী
আজ প্রীতি ম্যাচ দিয়ে লোহাগাড়ার ফুটবল মাঠের পরিচিত মুখ,বাঁশি হাতে যিনি দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ করেছেন অসংখ্য ম্যাচ,সেই মাস্টার নাছির আহমদ অবশেষে রেফারি জীবনের ইতি হলেন। দীর্ঘ ৩৬ বছরেরর পথচলার পর এক আবেগঘন মুহূর্তে মাঠ থেকে বিদায় হলেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার ১১-০৬-২৬ইং লোহাগাড়া সদরের কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল প্রীতি ম্যাচে ১ম ১০ মিনিট খেলা পরিচালনা করেন তাঁহার পর বিদায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে রেফারি হিসেবে অবসরের ঘোষণা দেন। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই ৩৬ বছর আগে রেফারিং শুরু করেছিলেন মাস্টার নাছির আহমদ। সময়ের সঙ্গে উপজেলার গণ্ডি পেরিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট, ফাইনাল ম্যাচ ও ক্রীড়া আয়োজন পরিচালনার মাধ্যমে তিনি অর্জন করেন সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা। সবসময় মাঠে তাঁর নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত,শৃঙ্খলা বজায় রাখার দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার কারণে খেলোয়াড় ও আয়োজকদের কাছে ছিলেন আস্থার প্রতীক। অবসর মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে মাস্টার নাছির আহমদ বলেন, ফুটবল মাঠ আমার জীবনের একটি বড় অংশ। এখানে কাটানো সময়গুলো সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। রেফারিং ছিল আমার দায়িত্বের পাশাপাশি ভালোবাসা ও আবেগের জায়গা। তিনি বলেন,রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে ছুটে গেছি শুধু ফুটবলের টানে। আজ দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছি, কিন্তু ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্ক কখনো শেষ হবে না। স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের ব্যক্তিরা জানান,মাস্টার নাছির আহমদের মতো নিবেদিতপ্রাণ রেফারি খুবই কম দেখা যায়। তাঁর বিদায়ে লোহাগাড়ার ফুটবল অঙ্গন হারালো একজন অভিজ্ঞ ও প্রিয় মানুষকে। লোহাগাড়া উপজেলা ফুটবল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এস এম চিশতী বলেন,তাঁর নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। মাঠে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব কুতুব উদ্দিন বলেন,তিনি শুধু খেলা পরিচালনা করেননি,নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করেছেন। তাঁর সততা ও অভিজ্ঞতা আগামী দিনের খেলোয়াড়দের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। দীর্ঘ ৩৬ বছরের বর্ণাঢ্য রেফারি ক্যারিয়ার শেষে মাঠ থেকে বিদায় নিলেও মাস্টার নাছির আহমদের অবদান ও স্মৃতিময় হিসেবে লোহাগাড়ার ক্রীড়াঙ্গনে চিরকাল সকলেই মনের গভীরে শ্রদ্ধাভাজন থাকবেন।