প্রকাশ :: ... | ... | ...

লোহাগাড়ায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ: বাড়ছে ডাকাতি, জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগ্রহীত

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ডাকাতি, জুয়া, মাদক সেবন এবং কিশোর গ্যাংয়ের নানা কর্মকাণ্ডের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বাজারসংলগ্ন এলাকা ও নিরিবিলি স্থানে কিশোর-কিশোরীদের দলবদ্ধ আড্ডা, জুয়া ও মাদকসেবনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড চলে আসলেও তা প্রতিরোধে পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, নিয়মিত টহল, সন্দেহজনক স্থানে নজরদারি এবং জুয়ার আসর ও মাদকবিরোধী অভিযান বাড়ানো হলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির কয়েকটি ঘটনায়ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাসে আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমীর খান চৌধুরী পাড়ায় একটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতরা প্রায় ৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া চুনতি ইউনিয়নে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একাধিক বসতঘরে ডাকাতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। আগস্ট মাসে আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তজু মুন্সি গ্যারেজসংলগ্ন একটি বাড়িতে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দুইতলা পাকা ভবনে ডাকাতি করেছে বলেও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কিশোর গ্যাংয়ের সংঘবদ্ধ কর্মকাণ্ড নিয়েও আতঙ্ক রয়েছে। থানার পাশবর্তী মাশাবির রেস্টুরেন্টের মতো জনবহুল এলাকায় কয়েকজন কিশোর মিলে এক কিশোরকে তুলে নিয়ে একটি পরিত্যক্ত কক্ষে আটকে রেখে মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের ঘটনায় কিশোরদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এদিকে অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, অনলাইন জুয়ার কারণে অনেক পরিবারে আর্থিক সংকট ও পারিবারিক অশান্তি তৈরি হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব তরুণদের মানসিক ও সামাজিক জীবনে পড়ছে বলেও মনে করছেন সচেতন মহল। চুনতি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল্লাহ আল তাহসিন (২২) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়া ও মাদকাসক্তির অভিযোগ তুলেছেন তার বাবা-মা ও স্ত্রী। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য জানা যায়নি। সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সন্ধ্যার পর উপজেলার বিভিন্ন নির্জন ও অপেক্ষাকৃত অরক্ষিত স্থানে বখাটে ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, চুনতি ফায়ার সার্ভিসের পাশে ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালসংলগ্ন দুটি পরিত্যক্ত টিনের ঘর, স্কুল রোডের আশপাশ, থানার পাশবর্তী শাহপীর মাঠ, রেলস্টেশন ও রেললাইনের আশপাশের এলাকা এসব কর্মকাণ্ডের অন্যতম স্থান। এ ছাড়া লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের দয়াবর পাড়ার বাদশা হাজির কলোনি, বোয়ালিয়া খালসংলগ্ন এলাকা, বার আউলিয়া কলেজের উত্তর পাশ, বাগ্যের দোকানসংলগ্ন এলাকা, লোহাগাড়া সদর বড় পুকুরপাড়ের এবতেদায়ী মাদ্রাসার পাশের বিল এবং আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুখছড়ি হাছিরপাড়া গ্রামের গাবতল স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাং ও মাদকসেবীদের আনাগোনা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সচেতন নাগরিকদের মতে, জুয়া, মাদক, কিশোর গ্যাং কিংবা ডাকাতির মতো ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে এখনই কার্যকর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে তা আরও বড় সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা সমস্যায় রূপ নিতে পারে। তারা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত পুলিশি টহল, রাতের বেলায় বিশেষ নজরদারি, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান এবং কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সাতকানিয়া সার্কেল আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, আপনাদের কাছে কোন তথ্য থাকলে দিন, যাচাই বাছাই করে দেখি। চুনতি ইউনিয়নে ডাকাতি বিষয়টি স্বীকার করে তিনি আরো জানান মূল সড়ক থেকে বেশ দূরে এবং বিছিন্ন এলাকা হওয়ায় ডাকাতদল পাশ্ববর্তী উপজেলা বাশঁখালি থেকে হেঁটে এসে ডাকাতি সংগঠিত করেছে এমন তথ্য পেয়েছি। এ বিষয়ে তারা কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া অপরাধ দমনে নিয়মিত চেকপোস্ট হয় এবং কোন জায়গাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে সাথে সাথে আইনের আওতায় আনা হবে।