প্রকাশ :: ... | ... | ...

সন্দ্বীপে ভূমি দখলমুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগ্রহীত

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় ভূমি দখলমুক্ত ও হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নিহত আইয়ুব জাহাঙ্গীরের নিজ বাসভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত আইয়ুব জাহাঙ্গীরের চাচাতো ভাই ইসমাইল হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইয়ুব জাহাঙ্গীরের বোন শাহনাজ পারভীন, আবদুল করিমসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, প্রায় ১০-১৫ বছর আগে আইয়ুব জাহাঙ্গীরের পিতা আবদুল্লাহ মিয়া মানবিক কারণে তাহের নামে এক ব্যক্তিকে বসবাসের জন্য জমিতে থাকার সুযোগ দেন। পরবর্তীতে আবদুল্লাহ মিয়ার মৃত্যুর পর তার ছেলে আইয়ুব জাহাঙ্গীর ওই ব্যক্তিকে জায়গা ছেড়ে দিতে বললে তাহের তা অস্বীকার করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাহের জোরপূর্বক জমি দখল করে রাখেন এবং আইয়ুব জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এতে নির্যাতনের শিকার হয়ে আইয়ুব জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকতে বাধ্য হন। পরিবারের দাবি, দেশে ফিরে জমি উদ্ধারের চেষ্টা করলে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দিবালোকে আইয়ুব জাহাঙ্গীরকে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে তাহের, কাজী জামালসহ আরও কয়েকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেন তারা। ঘটনার পর অভিযুক্ত তাহের দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়। বক্তব্যে বলা হয়, বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাহের আলোচনায় বসতে রাজি হননি। স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে চেষ্টা করেও কোনো সমাধান হয়নি। পরবর্তীতে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়ে ভূমি সংক্রান্ত মামলা দায়ের করেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করেন। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ডাকে উপস্থিত হলেও তাহের বৈধ কোনো কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি। এরপরও তিনি জমি দখল করে আছেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে মিথ্যা মামলা ও বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, “আমাদের কাছে সকল বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ কীভাবে জমি দখল করে আছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে আইয়ুব জাহাঙ্গীর হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হোক।” ভুক্তভোগী পরিবার সরকার, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ভূমি দখলমুক্ত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যায়।