প্রকাশ :: ... | ... | ...

অভাবের কাছে হার মানেনি তিনকন্যা, পাশে দাঁড়াল সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসন


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগ্রহীত

দারিদ্র্য আর পারিবারিক সংকট তাদের স্বপ্ন থামাতে পারেনি। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের তিন মেধাবী কন্যা। তবে ভালো ফলের পর উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেখা দিয়েছিল অনিশ্চয়তা। শেষ পর্যন্ত তাদের সেই দুশ্চিন্তা দূর করতে পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তিন মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছেন সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন। পাশাপাশি বইপত্র কেনার জন্য প্রত্যেককে নগদ ৭ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। কলেজে ভর্তি ও ড্রেস কেনার জন্যও দেওয়া হয়েছে আর্থিক সহায়তা। সহায়তা পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলো—মগধরা স্কুল অ্যান্ড কলেজের আলেয়া বেগম শীতুল, মুছাপুর বদিউজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের ঊর্মি আক্তার এবং গাছুয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মমিত্রা রায়। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে ইউএনও আমজাদ হোসেন তার কার্যালয়ে তিন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে নেন। সেখানে তিনি তাদের পড়াশোনা, পারিবারিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে বইপত্র কেনার জন্য ৭ হাজার টাকা করে তুলে দেন। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তিন শিক্ষার্থীর পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে সরকারের অনগ্রসর শিক্ষাবৃত্তির আওতায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিনামূল্যে বই দেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী দুই বছর অভিজ্ঞ শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগও দেওয়া হবে। এর আগে গত ১৩ আগস্ট ‘আমার দেশ’-এ ‘জিপিএ-৫ পেয়েও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় সন্দ্বীপের তিনকন্যা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরপরই ইউএনও তিন শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন। তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে আলেয়া বেগম শীতুল অসুস্থ বাবার চিকিৎসা ও পরিবারের নানা দুশ্চিন্তার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তার এমন সাফল্য প্রশংসিত হয়েছে স্থানীয়ভাবে। দরিদ্র কাঠমিস্ত্রি বাবার সন্তান ঊর্মি আক্তার। ভোকেশনাল শাখা থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে। অভাব-অনটনের মধ্যেও নিজের লক্ষ্যে অটুট থেকে সাফল্য অর্জন করেছে ঊর্মি। অন্যদিকে গ্রামীণ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক বাবার সন্তান মমিত্রা রায়। আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। তিন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইউএনও আমজাদ হোসেন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সফলতার এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। ভবিষ্যতে ভালো মানুষ হয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। ইউএনও বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন এই তিন মেধাবী শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার সব ব্যয়ভার বহন করবে। অর্থের অভাবে তাদের পড়াশোনা বন্ধ হতে দেওয়া হবে না।’ সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত আলেয়া বেগম শীতুল বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে। এখন মাথা থেকে লেখাপড়ার খরচের চিন্তা বাদ দিয়ে নিশ্চিন্তে মন দিয়ে পড়তে পারব।’ স্থানীয়দের মতে, প্রতিকূলতার মধ্যেও জিপিএ-৫ অর্জন করা এই তিন শিক্ষার্থীর পাশে উপজেলা প্রশাসনের দাঁড়ানোর ঘটনা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। অর্থের অভাবে যাতে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থেমে না যায়, এ উদ্যোগ তার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।