| ছবি: সংগ্রহীত
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে উপজেলার ১৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমেছে ১ হাজার ৪৬৮ জন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলছে শিক্ষক সংকট। ১৫০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৯টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে অধিকাংশ বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। সন্দ্বীপ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে উপজেলার ১৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল ২১ হাজার ৩৯২ জন। চলতি বছর এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৯২৪ জনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শিক্ষার্থী কমেছে প্রায় দেড় হাজার। আট বছরে শিক্ষার্থী কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ শুধু এক বছরের হিসাবেই নয়, দীর্ঘমেয়াদি চিত্রও উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সন্দ্বীপের ১৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল ৫৪ হাজারের বেশি। আট বছরের ব্যবধানে সেই সংখ্যা কমে ২০ হাজারের কাছাকাছি নেমে এসেছে। অর্থাৎ এ সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ। ৪৫ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ১০০ জনের নিচে উপজেলার ৪৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০০ জনের নিচে। এর মধ্যে সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী রয়েছে উড়িরচর বাটাজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা মাত্র ৪১ জন। ৯৯ বিদ্যালয়ে নেই নিয়মিত প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থী কমার পাশাপাশি শিক্ষক সংকটও প্রকট হয়ে উঠেছে। উপজেলার ১৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৯টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৬৫ শতাংশ বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। সহকারী শিক্ষকও কম ১৩৪ জন সহকারী শিক্ষকের ক্ষেত্রেও রয়েছে ঘাটতি। উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ১ হাজার ১৬টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৮৮২ জন। ফলে অনুমোদিত পদের তুলনায় ১৩৪ জন সহকারী শিক্ষক কম রয়েছেন। দুর্গম এলাকায় চ্যালেঞ্জ বেশি শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাওয়া এবং শিক্ষক সংকট—দুই সমস্যাই প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে দুর্গম ও উপকূলীয় এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ধরে রাখা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জন্মহার কমে যাওয়া, পরিবারের একাংশের দ্বীপ ছেড়ে শহরমুখী হওয়া, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যেতে পারে। তবে এত বড় সংখ্যায় শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবি সন্দ্বীপে প্রাথমিক শিক্ষার এমন পরিস্থিতিতে একদিকে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ধরে রাখা, অন্যদিকে শূন্য পদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবি উঠেছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থী কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে অনেক বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তাই শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি শিক্ষক সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।