প্রকাশ :: ... | ... | ...

সন্দ্বীপে এসএসসি ও সমমানে পাসের হার ৫৩.৭০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৮ জন


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: ইলিয়াছ সুমন

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। এ বছর উপজেলার ২ হাজার ৯৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ৫৮০ জন। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৮ জন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ৩০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৪টি ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান এবং ১১টি দাখিল মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়। গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও পাসের হার কমেছে। তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। ২০২৫ সালে সন্দ্বীপে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৩ হাজার ২৪৭ জন। এর মধ্যে পাস করেছিল ২ হাজার ১৪১ জন। পাসের হার ছিল ৬৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৭৫ জন। সে হিসাবে চলতি বছর পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফলাফল উপজেলার ৩০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফলাফল হলো— ১. রহমতপুর উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ১২৭ জন, পাস ৪৫ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। ২. কাটঘর গোলাম নবী উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ৯৯ জন, পাস ৬৬ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। ৩. আয়েশা ওবায়েদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ৪৭ জন, পাস ৩০ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। ৪. পূর্ব সন্দ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ৯৭ জন, পাস ৫২ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। ৫. কার্গিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ১৭ জন, পাস ৮ জন, জিপিএ-৫ নেই। ৬. মাঈটভাঙ্গা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ৪৬ জন, পাস ১৮ জন, জিপিএ-৫ নেই। ৭. মধ্য সন্তোষপুর উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ৭৪ জন, পাস ৪২ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। ৮. মগধরা উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ৯১ জন, পাস ৪৪ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। ৯. মুছাপুর হাজী আবদুল বাতেন উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ১২৩ জন, পাস ৫৫ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। ১০. জেবেন নুর সুলতান উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ৭৭ জন, পাস ৩৯ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। ১১. পূর্ব সন্দ্বীপ এনাম নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ৫৫ জন, পাস ২৭ জন, জিপিএ-৫ নেই। ১২. আজিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ১৫ জন, পাস ৮ জন, জিপিএ-৫ নেই। ১৩. গাছুয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ৯৬ জন, পাস ৬১ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। ১৪. এ কে একাডেমি: পরীক্ষার্থী ১২৫ জন, পাস ৮২ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ জন। ১৫. সাউথ সন্দ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ১৫০ জন, পাস ৬৩ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। ১৬. সন্তোষপুর উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ৪১ জন, পাস ১২ জন, জিপিএ-৫ নেই। ১৭. সন্দ্বীপ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ১৭৪ জন, পাস ৬৬ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। ১৮. সাউথ সন্দ্বীপ আবেদা ফয়েজ উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ৫৩ জন, পাস ৩১ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। ১৯. সন্দ্বীপ আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ৮৩ জন, পাস ৩৫ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। ২০. মোমেনা সেকান্দর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ১৭ জন, পাস ১১ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। ২১. দক্ষিণ-পূর্ব সন্দ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ১০২ জন, পাস ৪৩ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। ২২. কালাপানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ৭৯ জন, পাস ৬৬ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। ২৩. বাউরিয়া গোলাম খালেক একাডেমি: পরীক্ষার্থী ১০৩ জন, পাস ৪৯ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। ২৪. মুছাপুর বদিউজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ৯১ জন, পাস ৪০ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। ২৫. সন্দ্বীপ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ: পরীক্ষার্থী ৪৪ জন, পাস ১৬ জন, জিপিএ-৫ নেই। ২৬. দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ৮৮ জন, পাস ৩১ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। ২৭. কাজী আফাজ উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ৬০ জন, পাস ৩৩ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। ২৮. কালাপানিয়া চৌধুরী বিদ্যানিকেতন: পরীক্ষার্থী ১৩ জন, পাস ৪ জন, জিপিএ-৫ নেই। ২৯. সন্দ্বীপ আনন্দ পাঠশালা: পরীক্ষার্থী ৭৬ জন, পাস ৭৪ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ জন। ৩০. উড়িরচর মাধ্যমিক বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ১০ জন। কেউ পাস করেনি। জিপিএ-৫ও নেই। ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ভোকেশনাল শাখায়— ১. পূর্ব সন্দ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ৮৬ জন, পাস ৫৩ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। ২. সাউথ সন্দ্বীপ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ৫১ জন, পাস ৪৭ জন, জিপিএ-৫ নেই। ৩. মুছাপুর বদিউজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়: পরীক্ষার্থী ৬২ জন, পাস ৪১ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। ৪. সেকান্দর সাফিয়া দাখিল মাদ্রাসা (দাখিল ভোকেশনাল): পরীক্ষার্থী ১১ জন, পাস ৪ জন, জিপিএ-৫ নেই। দাখিল মাদ্রাসার ফলাফল ১. বশিরিয়া আহমেদীয়া আলহাজ আবু বকর ছিদ্দিক ফাজিল মাদ্রাসা: পরীক্ষার্থী ৩৭ জন, পাস ১৭ জন, জিপিএ-৫ নেই। ২. কাটঘড় ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা: পরীক্ষার্থী ৫৬ জন, পাস ৩৫ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। ৩. সন্দ্বীপ কারামতিয়া ফাজিল মাদ্রাসা: পরীক্ষার্থী ৪৫ জন, পাস ৩৫ জন, জিপিএ-৫ নেই। ৪. সন্তোষপুর আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা: পরীক্ষার্থী ৭৩ জন, পাস ৫৮ জন, জিপিএ-৫ নেই। ৫. হাজী আবদুল মালেক ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসা: পরীক্ষার্থী ৪১ জন, পাস ২২ জন, জিপিএ-৫ নেই। ৬. সন্দ্বীপ মহিলা দাখিল মাদ্রাসা: পরীক্ষার্থী ১৫ জন, পাস ১২ জন, জিপিএ-৫ নেই। ৭. পূর্ব সন্দ্বীপ শাহ আলামীয়া ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসা: পরীক্ষার্থী ৩৬ জন, পাস ২৩ জন, জিপিএ-৫ নেই। ৮. সেকান্দর সাফিয়া ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসা: পরীক্ষার্থী ৪৯ জন, পাস ১৫ জন, জিপিএ-৫ নেই। ৯. মুছাপুর শেখ মুহাম্মদীয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা: পরীক্ষার্থী ৪১ জন, পাস ১৫ জন, জিপিএ-৫ নেই। ১০. সারিকাইত মমতাজুল ইসলাম দাখিল মাদ্রাসা: পরীক্ষার্থী ২৩ জন, পাস ১২ জন, জিপিএ-৫ নেই। ১১. ডা. আহমদ উল্যাহ সালেহা আল জাদিদ দাখিল মাদ্রাসা: পরীক্ষার্থী ৫২ জন, পাস ৩৯ জন, জিপিএ-৫ নেই। ফলাফলে উজ্জ্বল কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাধ্যমিক পর্যায়ে সন্দ্বীপ আনন্দ পাঠশালা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফলাফল করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৪ জন পাস করেছে এবং ১৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এছাড়া এ কে একাডেমি থেকে ৭ জন, মধ্য সন্তোষপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬ জন, সাউথ সন্দ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬ জন এবং কালাপানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। অন্যদিকে উড়িরচর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজনও পাস না করায় প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে ফলাফল নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ফলাফল পর্যালোচনা করে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, দুর্বল বিষয়ে বিশেষ ক্লাস নেওয়া এবং পাঠদানের মান আরও উন্নত করা প্রয়োজন।