| ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, জেলে, দিনমজুর ও শ্রমিক পরিবারের সহায়তায় কোস্ট ফাউন্ডেশনের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির সমাপনী শিখন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত জুলাই মাসের অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে গত ১৪ জুলাই থেকে এ মানবিক সহায়তা কর্মসূচি শুরু করে কোস্ট ফাউন্ডেশন। প্রকল্পের আওতায় মোট ১ হাজার ৫০৭টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ অর্থ, স্বাস্থ্য উপকরণ, গবাদিপশুর খাদ্য এবং কৃষি উপকরণ সহায়তা দেওয়া হয়। কর্মসূচির আওতায় ৪০৬টি পরিবারের প্রত্যেককে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৮ হাজার ৮০ টাকা করে নগদ অর্থ ও স্বাস্থ্য উপকরণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৬০১ জন খামারিকে গবাদিপশুর দানাদার খাদ্য এবং ৫০০ কৃষককে ছয় প্রকার সবজি বীজ ও তিন প্রকার সার বিতরণ করা হয়। সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় কৃষকরা জানান, নদী ও সাগরবেষ্টিত সন্দ্বীপে লবণাক্ততার কারণে কৃষিকাজে সুপেয় ও মিঠা পানির সংকট রয়েছে। বৃষ্টির পানি ও ভূগর্ভস্থ পানিই কৃষকদের চাষাবাদের প্রধান ভরসা। তাই কৃষির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বিভিন্ন এলাকায় ডিপটিউবওয়েল স্থাপনের দাবি জানান তারা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন বলেন, সন্দ্বীপের প্রতিটি ইউনিয়নের পাশাপাশি পৌরসভা এলাকাতেও কৃষির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে পৌরসভাসহ সব ইউনিয়নকে কৃষি সেবার আওতায় আনা হবে। বিতরণ করা বীজের রোপণ, পরিচর্যা ও পোকামাকড় দমনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সেবা দিতে কৃষি বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মুকিতের রহমান বলেন, বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অবলা প্রাণীদের কথা অনেক সময় সবার নজরে আসে না। গবাদিপশুর খাদ্য সহায়তা পাওয়ায় খামারিদের তাদের সহায়-সম্পদ বিক্রি করে দিতে হবে না। প্রাণিসম্পদ টিকে থাকলে মানুষের আমিষের চাহিদাও পূরণে সহায়ক হবে। সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, সরকার ও বেসরকারি সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। কৃষকদের ডিপটিউবওয়েল স্থাপনের দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণের জন্য তিনি কোস্ট ফাউন্ডেশনকে অনুরোধ জানান। পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তিনি। প্রকল্প সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সেবাগ্রহীতাদের চূড়ান্ত তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার কথা জানান তিনি। সভায় সারিকাইত ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাছলিমা বেগম, রহমতপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাহেনা বেগম, মগধরা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াছ, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা সন্দ্বীপ শাখার সভাপতি ইলিয়াছ সুমন, কোস্ট ফাউন্ডেশনের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক রাজিব, জয়, আমজাদ, সজীব, হৃদয়, মুনা, রেশমা, সীমা ও নাদিয়াসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন এবং কৃষি ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের প্রতিনিধিরা পুরো সহায়তা কার্যক্রম তদারকি করেন।