| ছবি: সংগ্রহীত
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার রহমতপুর স্কুলের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ বছর বিদ্যালয়টি থেকে মোট ১২৭ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৪৫ জন। ফলে বিদ্যালয়ের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। আর অকৃতকার্য হয়েছে ৮২ জন। জিপিএ-৫ (এ+) পেয়েছে মাত্র একজন শিক্ষার্থী। ফলাফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ১২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮২ জনের অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পরীক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি। পাসের হার কম হওয়ায় বিদ্যালয়ের পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মূল্যায়ন, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং একাডেমিক তদারকি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিভাবকদের অনেকে মনে করছেন, এবারের ফলাফলকে সতর্কবার্তা হিসেবে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত করে অতিরিক্ত ক্লাস, নিয়মিত পরীক্ষা, অভিভাবক-শিক্ষক সমন্বয় এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী করার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয় শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, একটি বিদ্যালয়ের ফলাফল শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতার বিষয় নয়। এর সঙ্গে পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকের উপস্থিতি ও দায়িত্বশীলতা, নিয়মিত মূল্যায়ন, অভিভাবকের ভূমিকা এবং বিদ্যালয় পরিচালনার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাও জড়িত। তাই রহমতপুর স্কুলের ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফল পর্যালোচনা করে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে রহমতপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. ইসমাইল বলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই গতবারও পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের আটজন শিক্ষক অতিথি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকির ঘাটতিও ছিল। ১২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৪৫ জনের পাস এবং একজনের জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনায় বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থা ও ফলাফল নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।