| ছবি: সংগ্রহীত
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক বিরোধপূর্ণ জায়গা দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার (৫ জুন) বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন কেরানীহাট এলাকার একটি রেস্টুরেন্টের হলরুমে নির্যাতিত পরিবার ও সচেতন নাগরিকের ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মো. আরিফ উদ্দিন। এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, হাজী রফিকুল আলম, ছোবহান হাজী, মো. ইব্রাহিম মাস্টার, আইয়ুব আলী সিকদার, জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও মাওলানা সৈয়দসহ প্রমুখ। বক্তব্যে মো. আরিফ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের কেরানীহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সিটি সেন্টারের উত্তর পাশে আমাদের ৩৪ শতক জায়গা রয়েছে। দীর্ঘ ৮০ বছর ধরে ওই জায়গাটি আমাদের দখলে থাকলেও সম্প্রতি নুরুল আলম গং সেখান থেকে ৯ শতক জায়গা জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারই প্রেক্ষিতে, ২০২২ সালে প্রতিপক্ষের লোকজন ৪১৫২ নম্বর কবলা গোপন করে সাতকানিয়া চৌকি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন এবং ২০২৩ সালে একতরফা রায় পান। পরে তারা বিভিন্ন তথ্য গোপন করে ৪৭১০ নম্বর খতিয়ানটি সৃজন করেন। পরবর্তীতে আমরা ২০২৩ সালে ওই রায়ের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা আদালত চট্টগ্রামে আপিল করলে বিচারিক আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ২০২৬ সালে মামলাটি রদরহিতপূর্বক রিমান্ডে প্রেরণ করেন। বিচারিক আদালতের ওই আদেশের প্রেক্ষিতে, সাতকানিয়া উপজেলা ভূমি অফিস পূর্বে সৃজিতকৃত ৪৭১০ নম্বর খতিয়ানটি স্থগিত করেন। তিনি আরও বলেন, এরপর ২০২৩ সালে আমাদের প্রতিপক্ষের নূরজাহান ৪১৫২ নম্বর দলিলটি বাতিলের জন্য সাতকানিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন৷ তিনি ওই মামলায় জায়গাটির মালিক মৃত খাজেমা খাতুনের প্রকৃত ওয়ারিশকে বিবাদী না করে ভিন্ন ব্যক্তি বিবাদী করেন এবং যোগসাজশ করে আমাদের অজান্তে একতরফা রায় পান। পরবর্তীতে আমরা বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে ২০২৪ সালে ১ম অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত চট্টগ্রামে আপীল দায়ের করি। এরপর আদালত ২০২৫ সালে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ওই মামলাটিও রদরহিতপূর্বক রিমান্ডের জন্য সাতকানিয়া চৌকি আদালতে প্রেরণ করেন। এ ছাড়াও বর্তমানে ওই বিরোধপূর্ণ জায়গাটিতে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ বলবৎ রয়েছে। মো. আরিফ উদ্দিন বলেন, বর্তমানে নুরুল আলম গং আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ওই জায়গাটির দখলের লক্ষ্যে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি এবং আইনগত প্রতিকার চেয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, অভিযোগ করার পরও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। তাই আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আমাদের মালিকানাধীন সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নুরুল আলমের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও উভয়পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।