| ছবি: সংগ্রহীত
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় প্রতিনিয়ত কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) ও পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংসের জন্য দায়ী অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। শুক্রবার (৫ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ছনখোলা গ্রামে ছনখোলা এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এ সময় শতাধিক এলাকাবাসী ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন, মোস্তাফিজুর রহমান, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, মোকতার আহমেদ, আক্কাস উদ্দিন ও খালেদ হোসাইন খোকনসহ প্রমুখ। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয়ভাবে পাহাড়খেকো হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকজন অবৈধ ইটভাটার মালিক প্রতিনিয়ত কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) ও পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংস করছেন। অথচ এই ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখেও উপজেলা প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। ফসলি জমি ও পরিবেশ রক্ষায় এসব অবৈধ ইটভাটা দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্ধের পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বক্তারা অভিযোগ করে আরও বলেন, মাঝেমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হলেও পরবর্তীতে অবৈধ ইটভাটার মালিকরা আরও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠেন। মাটি কাটার এই ভয়াবহ চিত্র এবং পাহাড়খেকোদের তাণ্ডবের বিষয়ে ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু তিনি এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। পরিশেষে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবৈধ ইটভাটাগুলোতে ইট তৈরির জন্য দেদারসে ফসলি জমি ও পাহাড় কাটার ফলে পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যদি অনতিবিলম্বে এসব অবৈধ ইটভাটা বন্ধ না করে, তাহলে এলাকাবাসী পরিবেশ রক্ষায় বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, অবৈধভাবে ফসলি জমি ও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে ছনখোলা এলাকায় পাহাড় কাটার দায়ে বেশ কয়েকজনকে জরিমানার পাশাপাশি চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। যারা এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।