প্রকাশ :: ... | ... | ...

চা-পান বিক্রেতাকে পিটিয়ে হত্যা, ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রেপ্তার ২


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: মো: আরিফুল ইসলাম

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ইয়াবাসহ মো. কামাল ওরফে পিচ্চি কামাল (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে সেনাবাহিনীর হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে এমন সন্দেহ ও ক্ষোভের বশিভূত হয়ে শাহাদাত হোসেন (৩২) নামে এক চা-পান বিক্রেতাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে নিহত শাহাদাত হোসেনের মা ছায়েরা খাতুন (৫৮) বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে পুলিশ। তারই প্রেক্ষিতে, বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ওই মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়াও এ মামলার সন্দিগ্ধ আসামি মো. ইসমাঈলকে (২৭) গ্রেপ্তার করে সাতকানিয়া থানা পুলিশের একটি হস্তান্তর করেছে র‍্যাব-৭। এ মামলায় তানভীর হোসেন তুর্কি (২৫), মো. কামাল প্রকাশ পিচ্চি কামাল (৩৩), শাহাদাত হোসেন মিশলু (২৪), মোহাম্মদ ফারুক প্রকাশ টাইগার ফারুক (৩০), আকিবুল ইসলাম আউক্কা (২৭), কফিল উদ্দিন (৩৬), মো. সাইফুল ইসলাম (৩১), মো. নোমান (২৭) ও মো. হেলালকে (২৮) এজাহারনামীয় এবং ৮ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে মামলার ২ নম্বর আসামি পিচ্চি কামাল ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন। এ ঘটনায় তিনি কয়েকমাস কারাগারে থেকে সম্প্রতি জামিনে বের হয়। এরপর শাহাদাত তাকে ধরিয়ে দিয়েছে এমনটা দাবি করে আসামিরা নিহত শাহাদাতকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। গত (২৬ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে শাহাদাত সাতকানিয়া রাস্তার মাথা মডেল মসজিদ এলাকায় তার চা-পানের দোকানের সামনে বসে থাকা অবস্থায় আসামিরা তার উপর অতর্কিত হামলা করে মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আরও জানা যায়, পরে শাহাদাতকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলার কেরানীহাট এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে আইসিইউ খালি না থাকায় নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোর ৬টার টার দিকে শাহাদাত মারা যান। এদিকে থানা সূত্রে জানা গেছে, নিহত শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। তারমধ্যে বেশ কয়েকটি মাদক মামলা বলে জানা গেছে। নিহত শাহাদাত হোসেনের বড়ভাই মোবারক হোসেন বলেন, আমার ভাই আসামিদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। তাই তাকে (শাহাদাত) পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, মামলার এজাহারনামীয় আসামি সাইফুল ও সন্দিগ্ধ আসামি ইসমাঈকে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আদালতের নিকট সোপর্দ করা হবে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।