প্রকাশ :: ... | ... | ...

জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ সাতকানিয়ায় জায়গার মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগ্রহীত

জায়গা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বারদোনা গ্রামের শাহ দুধা ফকির পাড়ার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী জসীম উদ্দীনের জায়গার মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জসীম উদ্দীন বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বরাবর নূর আহমদ ও তার ছেলে মো. মিজানকে বিবাদী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা কোনো প্রকার অনুমতি, পূর্ব অবগতিকরণ ও প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই প্রকাশ্যে তাদের (জসীম) নিজস্ব জায়গা ও বাড়িভিটা থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। ঈদের পূর্বে তাদেরকে সরাসরি বাধা প্রদান ও সতর্ক করায় পরও তারা কোনো কথা না শুনে আরও বেপরোয়া হয়ে মাটি কাটার কাজ অব্যাহত রেখেছে। আরও জানা যায়, এভাবে মাটি কাটার ফলে জমির প্রকৃত অবস্থা নষ্ট হচ্ছে, ভূমির উচ্চতা কমে যাচ্ছে এবং বাড়ি ও বাউন্ডারি ওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়াও ভবিষ্যতে ভূমিধস, পানি জমে থাকা ও অন্যান্য মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে তাদের (জসীম) বাড়িভিটা ও জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিরোধ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। জসীম উদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, আমাদের জায়গা থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে নেওয়ায় নুর আহমদ ও মো. মিজানের বিরুদ্ধে আমি একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। তারা আমাদের সম্পত্তির উপর হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্যে এমন বেআইনি কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাটি কাটা বন্ধ এবং আমাদের বাড়িভিটা রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের সঙ্গে আমাদের জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে অনেক মামলা, অভিযোগ ও সালিসি বৈঠক হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সমাধান হয়নি। আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট স্থায়ী একটি সমাধান প্রত্যাশা করছি। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নুর আহমদের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটা আমার মালিকানাধীন জায়গা। আমার নামে দলিল ও খতিয়ান রয়েছে। আমি দীর্ঘ ৩৮ বছর প্রবাসে ছিলাম। তখন জসীমরা জায়গাগুলো ১ বছর দখল করে রেখেছিল। পরে আমি পুনরায় দখল ফিরে পেয়েছি। পরে নুর আহমদের ছেলে মো. মিজানের ফোনে যোগাযোগ করা হলে পুকুরের পাড় সংস্কারের জন্য তাদেরই মালিকানাধীন জায়গা থেকে সীমিত পরিসরে কোদাল দিয়ে মাটি কাটা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমি অধিকাংশ সময় চট্টগ্রাম নগরীতে থাকি। তাদের সঙ্গে আমাদের পরিবারের দীর্ঘদিন থেকে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। তারা একতরফা ডিগ্রি নেওয়ার পর আমরা আদালতে মামলা করেছি। ওই মামলায় এখনো পর্যন্ত চলমান রয়েছে। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুরো বিষয়টি তদন্তের পাশাপাশি উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।