| ছবি: সংগ্রহীত
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভায় জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জমিরিয়া সুলতানুল উলুম মাদরাসায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মাদরাসাটির রাস্তার বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুরের পাশাপাশি দেয়ালে জয় বাংলা লেখারও অভিযোগ উঠেছে। এ হামলায় ওই মাদরাসার চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এ হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছমদর পাড়ায় অবস্থিত মাদরাসার হলরুমে পরিচালনা কমিটির ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতি মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও মাওলানা মাহমুদুল করিম কাসেমী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। মুফতি মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রাতের আঁধারের এ হামলায় মাদরাসার চারজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। হামলাকারীরা ঘটনাটিকে ভিন্ন দিকে মোড় দেওয়ার লক্ষ্যে মাদরাসার সিসিটিভি ক্যামেরায় কালো রঙের স্প্রে দিয়ে ঢেকে দেয়। এরপর দেয়ালে স্প্রে দিয়ে রাজনৈতিক স্লোগান 'জয় বাংলা' এঁকে দেয়। তিনি আরও বলেন, জায়গাটি অনেক বছর আগে মাদরাসার জন্য খরিদ করা হয়েছে। এরপর দীর্ঘ বছর ধরে সুনামের সাথে মাদরাসাটি এখানে পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি জোরপূর্বক মাদরাসার রাস্তা দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত হওয়ায় আমরা উপজেলা প্রশাসন ও আদালতের শরণাপন্ন হই। এরপর আদালত ওই জায়গায় উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তবে আদালতের আইনি নিষেধাজ্ঞা ও লিগ্যাল এইডের নোটিশ তোয়াক্কা না করেই প্রতিপক্ষের লোকজন এমন তাণ্ডব চালিয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মাওলানা মাহমুদুল করিম কাসেমী অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারীরা সিসিটিভি ক্যামেরার লেন্স কালো রঙের স্প্রে ব্যবহার করে ঢেকে দিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। এ সময় মাদরাসার শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী রক্তাক্ত আহত হয়েছে। এ ছাড়াও সিসিটিভি ক্যামেরায় স্প্রে করার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত হামলাকারীদের প্রবেশ ও গতিবিধির স্পষ্ট ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে। সেখানে হামলাকারীদের স্পষ্ট চেনা যাচ্ছে। তারা পালিয়ে যাওয়ার সময় ভাঙচুরের কাজে ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি ঘটনাস্থলে ফেলে যায়। ঘটনার পরপরই আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। এ হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত মো. আব্দুল্লাহর ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা নিজেরা এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এরপর আমাদের উপর দায় চাপিয়ে দিচ্ছে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জামিয়াতুল আরবিয়াতুল হাফেজিয়া ছমদর পাড়া বড় মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আবুল হোসাইন, ঠাকুরদিঘী হেমায়তুল ইসলাম মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মাহমুদুল হক, বোর্ড অফিস মাদরাসার পরিচালক মাওলানা ফয়সাল হাকিম, সাতকানিয়া জামে মসজিদের খতিম মাওলানা হাবিবুল্লাহ, ঘাটিয়াডেঙ্গা আইনুল উলুম মাদরাসা পরিচালক মাওলানা আব্দুল মুবিন, রাহে নাজাত মাদরাসার পরিচালক মাওলানা জুনায়েদ, খরাইয়ানগর মাদরাসার পরিচালক মাওলানা তৌহিদুর রহমান, উলামা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাওলানা হাফেজ হারুন বিন রশিদ, ছিটুয়া পাড়া দারুল আরকাম মাদরাসার পরিচালক মাওলানা জোনায়েদ ফয়েজী, ছমদরপাড়া বড় মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা হাফেজ শোয়াইব ও সাতকানিয়া উলামা পরিষদের সেক্রেটারি মাওলানা দেলোয়ারসহ প্রমুখ।