প্রকাশ :: ... | ... | ...

স্বামীকে ফিরিয়ে আনার ঝাড়ফুঁক করতে গিয়ে ওঝার হাতে ধর্ষণ, পরে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবি ওঝাসহ গ্রেপ্তার ৪


সংযুক্ত ছবি

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় স্বামীকে ফিরিয়ে আনার জন্য ঝাড়ফুঁক করতে গিয়ে সজল কান্তি দাশ প্রকাশ সজল বৈদ্যের (৬৫) হাতে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন এক নারী। এ ঘটনায় সজল বৈদ্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় গোপনে ভিডিও ধারণ করে সাংবাদিক পরিচয়ে সজল বৈদ্যকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় ৩ যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে সজল বৈদ্যকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। একই সময় সজল বৈদ্যের স্ত্রী ঝর্না রানী দাশ বাদী হয়ে চাঁদা দাবির ঘটনায় মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৩), নুরুল আবছার (৪২) ও মো. জয়নাল উদ্দিনকে (৩১) আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। প্রথম মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার এক নারী তার স্বামীকে ফিরিয়ে আনার ঝাড়ফুঁক করতে সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টার পাড়ার সজল বৈদ্যের বাড়িতে আসেন। এ সময় ওই নারীর স্বামীকে ফিরিয়ে আনার প্রলোভন দেখিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে সজল বৈদ্য তাকে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করেন। দ্বিতীয় মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে ধর্ষণের শিকার নারী সজল বৈদ্যের বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পর জাহাঙ্গীর, আবছার ও জয়নাল জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর তারা বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে আটক করেন। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সরেজমিনে মাস্টার পাড়ায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই নারীর সঙ্গে থাকা একটি হাতব্যাগে গোপন ক্যামেরা ছিল। কৌশলে তিনি সজল বৈদ্যকে জড়িয়ে ধরে অন্তরঙ্গ মুহুর্তের গোপন ভিডিও ধারণ করেন। এর একপর্যায়ে ওই নারীর সঙ্গে একটি কক্ষে সজল বৈদ্যের ধস্তাধস্তি হয়। এর একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর, আবছার ও জয়নাল আকস্মিকভাবে কক্ষে প্রবেশ করে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সজল বৈদ্যের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সময় তিনি চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ওই গোপন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখান। পরে তিনি নিরুপায় হয়ে তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও তারা ২ লাখ টাকা দাবি করেন। এমন সময় সজল বৈদ্যের পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদেরকে আটক করেন। এরপর উত্তেজিত জনতা ওই নারীসহ ৩ যুবককে গণপিটুনি দেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সাতকানিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুদীপ্ত রেজা বলেন, এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলার আসামি সজল বৈদ্য ও মামলার আসামি জাহাঙ্গীর, আবছার ও জয়নাল। তাদেরকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে আদালতের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে।