শিরোনামঃ

হিজড়াকে প্রাণনাশের হুমকি, বিশেষ অঙ্গহানি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

আরিফুল ইসলাম
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: আরিফুল ইসলাম
ছবি: আরিফুল ইসলাম

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার তৃতীয় লিঙ্গের মৌসুমী হিজড়াকে প্রাণনাশের হুমকি, অচেতন করে বিশেষ অঙ্গহানি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার কেরানীহাটে অবস্থিত একটি রেস্টুরেন্টের হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মৌসুমী হিজড়া ছাড়াও আয়েশা হিজড়া, কমুরী হিজড়া, মুক্তা হিজড়া ও তানিশা হিজড়া উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে মৌসুমী হিজড়া বলেন, আমি উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা। বিগত ৮ থেকে ৯ বছর পূর্বে ঢেমশা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাদুর বাড়ির মো. আবদুল মোমেনের সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সম্পর্কের একপর্যায়ে তিনি আমাকে কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ক্রয়ের প্রস্তাব দেন। এরপর আমি চারটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ক্রয় করে সেগুলো তাকে তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব প্রদান করি। পরবর্তীতে তিনি আমার অজান্তে দুইটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা বিক্রয় করে দেন।

তিনি আরও বলেন, মোমেন কৌশলে আমার ব্যাংক একাউন্ট থেকে প্রায় ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে আমি বিষয়টি বুঝতে পেরে টাকাগুলো ফেরত চাইলেও তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর আমি নিরুপায় হয়ে তার বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের নিকট সোপর্দ করেন। পরে তিনি জামিনের মাধ্যমে কারাগার থেকে বের হওয়ার পর থেকে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে যাচ্ছেন।

মৌসুমী হিজড়া বলেন, বিগত দেড় বছর আগে মো. আবদুল মোমেন আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে চট্টগ্রামের অপর এক হিজড়ার সঙ্গে মিলে আমার বাড়িতে আসেন। এরপর তারা আমাকে অচেতন করে বিশেষ অঙ্গহানি করেন। একপর্যায়ে আমার জ্ঞান ফিরলে মোমেনকে পাশে দেখতে পাই। এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি আমাকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে বিশেষ অঙ্গহানি করেছেন বলে জানান। ওই সময় আমি একটি অভিযোগ দায়ের করলেও কোনো ধরনের সুরাহা হয়নি। এসব ঘটনার জেরে বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই আমি প্রশাসনের নিকট মোমেনকে গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. আবদুল মোমেনের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাতকানিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সুদীপ্ত রেজা বলেন, এ ঘটনায় আমরা কোনো ধরনের অভিযোগ পায়নি। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL