| ছবি: মোহাম্মদ সামির
দেশে বেকারত্বের সংকট দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে। বিশেষ করে চলতি বছর পর্যন্ত কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ এবং নতুন চাকরি সৃষ্টির ধীরগতির কারণে বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত ও দক্ষ তরুণ তরুণী দীর্ঘদিন ধরে চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন। ফলে পরিবার ও সমাজে অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি মানসিক উদ্বেগও বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের চেষ্টা করলেও তাদের তুলনায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে অনেক কম। সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়া, বেসরকারি খাতে নিয়োগ কমে যাওয়া এবং শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগের গতি মন্থর হওয়ায় চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। বেকার তরুণদের অনেকেই বলছেন, বছরের পর বছর বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েও কাঙ্ক্ষিত চাকরি মিলছে না। অন্যদিকে অনেক প্রতিষ্ঠান অভিজ্ঞ জনবল চাওয়ায় সদ্য শিক্ষাজীবন শেষ করা তরুণরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে অনেকেই বাধ্য হয়ে স্বল্প আয়ের অস্থায়ী কাজ কিংবা পেশা পরিবর্তনের পথ বেছে নিচ্ছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহজ ঋণ সুবিধা, তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক তরুণকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনা সম্ভব। সামাজিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয় এটি সামাজিক অস্থিরতা, হতাশা এবং অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই দ্রুত বাস্তবসম্মত কর্মসংস্থান নীতি প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের প্রত্যাশা, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতও নতুন বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে এগিয়ে আসবে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ, স্টার্টআপ সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি জোরদার করা হলে দেশের বেকারত্বের চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতির গতিশীলতা ধরে রাখতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ সংকট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে আগামী দিনে বেকারত্বের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।