প্রকাশ :: ... | ... | ...

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ: দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগ্রহীত

​বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির পর, দুবাই পুলিশ তাকে আটক করে। আজ রোববার বিকেলে সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলের সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। আমরা তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এটি বর্তমান সরকারের একটি বড় সাফল্য। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, তা আবারও প্রমাণিত হলো।” ​স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো দুবাইয়ের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। আইনি জটিলতা কাটিয়ে যত দ্রুত সম্ভব তাকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। ​উল্লেখ্য,​বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দুদক তার বিশাল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অনুসন্ধান শুরু করে এবং মামলার পর অভিযোগের সত্যতা পায়। দুদক অভিযোগ করেছে যে, বেনজীর আহমেদ তার বেতন-ভাতার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ১১ কোটি ৪ লাখ টাকার বেশি সম্পদ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন। গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেন। বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থাতেই তিনি বিদেশে অবস্থান করায়, তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গত ১৩ মে আদালতে এই মামলার প্রধান সাক্ষী ও দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম জবানবন্দি দিয়েছেন। পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ২৩ জুন ধার্য রয়েছে। ​২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে বেনজীর আহমেদের সম্পদের হিসাব নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। তৎকালীন সরকারের নমনীয়তায় তিনি কোনো বাধা ছাড়াই দেশত্যাগ করতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তার বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম জোরদার করা হয়। ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। ​আইনজীবীরা মনে করছেন, ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তার হওয়ায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তি এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে তাকে ফিরিয়ে আনার সময়সীমা। ​বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারকে দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার তাকে কত দ্রুত বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারে। ​