| ছবি: নাছির উদ্দীন শীবলু
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে হতে দ্বীপ অঞ্চলে পারাপারে লঞ্চ ও ফেরী ঘাট একমাত্র ভরসা। কুমিরা-গুপ্তছড়া ও বাঁশবাড়িয়া ঘাটের লঞ্চ, নৌকা,ফেরী, ও স্প্রীট বোটে দ্বীপবাসী এপার ওপার যাতায়াত করছে। নৌ পথে নৌযানে উঠা নামার সুবিধার্থে কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটে দু-পাড়ে দীর্ঘ ব্রীজ স্থাপনা করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে যাত্রীরা চলাচল করলেও ব্রীজে সংস্কার মেরামত হয়নি। এতে করে জোয়ারের উত্তাল ঢেউয়ে লোনা পানির আঘাতে ব্রীজের অধিকাংশ স্থানে ফাটলের সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রী পারাপারে হুমকি হয়ে উঠেছে। উপজেলা নৌ পথে ৬ টি ঘাটে ব্যবসা-বানিজ্য ও চাকুরিজীরা চলাচল করত। পরবর্তীতে খালগুলো নৌ চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়ায় আমির মোহাম্মদ, মুরাদপুর, বাড়বকুন্ড ও সীতাকুন্ড ঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটে চাপ বৃদ্ধি পায়। ঘাটের উপর অতিরিক্ত চাপ বাড়ায় যাত্রী সুবিধায় নানামুখী উন্নয়ন করে জেলা পরিষদ ও বিআইডাব্লাউটিএ। ১৯১১ সালে বড় অংকের বরাদ্ধে সমূদ্রমুখী ৬৫০ মিটার দৈর্ঘ ব্রীজ স্থাপন করা হয়। এরপর থেকে কাঁদামাটির বিড়ম্বনা হতে মুক্তি পেয়ে ব্যবসায়ী ও পেশাজীবিরা মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু দীর্ঘ সময় সেবাদারকারী ব্রীজ লোনা মিশ্রিত পানির প্রবল জোয়ারে ক্ষয়ে পড়া ব্রীজের নানা অংশে ভাঙন দেখা দেয়। এ অবস্থায় ঝুকিপূর্ন ব্রীজে চলাচলকালে জানমাল নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েন সমূদ্র পথের বাসিন্দরা। তারা বলেন,‘ এ পথে চলাচলে শরীর কাঁদামাক্ত হয়ে উঠত। ব্রীজ স্থাপনের পর হতে বিড়ম্বনার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ্য মানুষ নিয়ে সাচ্ছন্দে চলাচল করতে পারছি। কিন্তু ব্রীজের বিভিন্ন অংশে ভাঙনের কারনে বড় ধরনের র্দুঘটনা ঘটতে পারে। তাছাড়া ব্রীজ ভেঙে পড়লে আবারো দুর্ভোগের কবলে পড়তে হবে। প্রায় ২’শ কোটি টাকার অধিক অর্থ ব্যায়ে বাঁশবাড়িয়া ফেরী ঘাট ফেরী চলাচলের উপযোগী করায় ব্যবসা-বানিজ্য ও চাকুরিজীদের যাতায়াতে বৃদ্ধি পেয়েছে। দৈনিন্দিন গড়ে ৩- ৪ হাজার মানুষ, মালবাহী ও যাত্রীবাহী পরিবহন ফেরীতে চলাচল করছে। এ অবস্থায় আর্থিক বরাদ্ধের অভাবে কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটে অচলবস্থা দেখা দিয়েছে। ব্রীজে নজুক অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রী কমেছে ঘাট পরিচালক নয়ন জানান। তিনি বলেন,‘ কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাট দ্বীপবাসীর চলাচলের অন্যতম পথে দৈনিক গড়ে ২-৩ হাজার যাত্রী আসা যাওয়া করছে। কাদামাক্ত পথ মাড়িয়ে নৌযানে উঠার নামার দুর্ভোগ একেবারে নেই। ব্রীজটি পূননির্মান না করলে দুর্ভোগের কবলে পড়তে হবে ঘাটটি বন্ধ হয়ে যাবে। এ বিষয়ে বিআইডাব্লিউ টি এ’র প্রকল্প পরিচালক আশরাফ উদ্দিন বলেন,‘ ব্রীজ রক্ষনা বেক্ষন মেরাতম কাজ শেষ করা হয়েছে। ফাটল সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা নেই। তবে ব্রীজ উন্নয়নে আপতত কোনো কাজ করা হবে না বলে জানান তিনি।