প্রকাশ :: ... | ... | ...

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে সিলেটে নিহত র‍্যাব সদস্য ইমনের বাড়ি হাটহাজারীতে, এলাকায় শোকের ছায়া


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: মো. সাহাবুদ্দীন সাইফ

সিলেটে পুলিশ ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে ছিনতাইকারীকে ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত র‍্যাব-৯ এর সদস্য ইমন আচার্যের (২৮) গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে। তিনি হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের কাটিরহাট এলাকার সন্তান। আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মাত্র তিন মাস আগে বিয়ে করা ইমনের এই আকস্মিক মৃত্যুর খবরে হাটহাজারীর কাটিরহাটের নিজ বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। নিহত ইমনের কাকা এবং কাটিরহাট পশ্চিম ধলই উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক প্রাণজিৎ আচার্য গণমাধ্যমকে জানান, ইমনের অকাল মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছানোর পর পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাত্র তিন মাস আগে পারিবারিক জীবনে আবদ্ধ হওয়া ইমনের স্ত্রীর ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে বাবা-মা এখন বাকরুদ্ধ। আজ শুক্রবার সকালে সিলেট মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার পশ্চিম পাশে এক ছিনতাইকারীকে ধাওয়া করে পুলিশ। সে সময় ব্যক্তিগত কাজে সাদা পোশাকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ থেকে প্রেষণে র‍্যাব-৯-এ কর্মরত ইমন আচার্য। একজন সচেতন ও সাহসী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে সাহায্য করতে এগিয়ে যান এবং ছিনতাইকারীকে জাপটে ধরেন। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ছিনতাইকারী তার কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে ইমনের বুকের বাম পাশে মারাত্মকভাবে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে দুপুর দেড়টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে ঘটনার পর পরই পুলিশ ও র‍্যাবের বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ছিনতাইকারীকে রক্তমাখা ছুরিসহ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ও র‍্যাব-৯ এর পক্ষ থেকে ইমনের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। সিলেটে আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ রাতেই বীর এই র‍্যাব সদস্যের মরদেহ চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ধলই ইউনিয়নের কাটিরহাটে নিয়ে আসার কথা রয়েছে। সেখানেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।