| ছবি: মো. সাহাবুদ্দীন সাইফ
দীর্ঘদিন পর একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে, এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও নিরবচ্ছিন্ন রাখা বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গত শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর লালিয়ারহাটে আয়োজিত এক বিশাল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বিএনপি নেত্রী ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা এসব কথা বলেন। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ জন্মস্থানে আগমণ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ আংশিক) আসনের বিএনপি পরিবার ও সর্বস্তরের জনসাধারণ এই সংবর্ধনা সভার আয়োজন করে।ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করছেন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে পড়াশোনা এবং নারীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বৈপ্লবিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বক্তব্যের এক পর্যায়ে নিজের রাজনৈতিক উত্তরসূরি ও পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা টেনে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, আজকের দিনটি আমার জীবনের অন্যতম ঐতিহাসিক ও গর্বের দিন। আমার মরহুম পিতা, এই আসনের ৪ বারের এমপি ও সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে এই অর্জন কেবল আমার ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি একটি আদর্শের বিজয় এবং জনগণের আস্থার প্রতিফলন। বাবার স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, বাবার ত্যাগ, সততা ও মানুষের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা আমার পথচলার চিরন্তন প্রেরণা। তাঁর দেখানো পথেই আমি আমৃত্যু আপনাদের সেবা করে যেতে চাই। বিশেষ করে হাটহাজারী উপজেলার অবকাঠামো ও সার্বিক উন্নয়নে আমি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব। এর আগে বিকেল ৫টার দিকে ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা লালিয়ারহাট এসে পৌঁছালে হাজার হাজার নেতাকর্মী তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এলাকায় পৌঁছেই প্রথমে তিনি তাঁর মরহুম পিতা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কবর জিয়ারত ও মোনাজাত করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তিনি নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।